বন্দরে নির্মাণাধীন একটি ভবনে চুরির অভিযোগে চোর আখ্যা দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গত ২৪ ঘন্টায় কোন মামলা হয়নি। তবে একজন ব্যক্তিকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মেনে নিতে পারছে না এলাকাবাসী। নিহত পারভেজের পরিবারের দাবি, চোর আখ্যা দিয়ে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
রোববার (২৩ নভেম্বর) ভোরে উপজেলার সোনাচড়া এলাকায় মেসবাহ উদ্দিনের নির্মাণাধীন বাড়ির অংশে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় পারভেজকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত পারভেজ সিদ্ধিরগঞ্জের বার্মাশীল এলাকার মৃত তারা মিয়ার ছেলে। তিনি বন্দরের ঢাকেশ্বরী এলাকায় ভাড়ায় থাকতেন এবং নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
পারভেজের পরিবারের অভিযোগ, রোববার ভোরে তার স্বামী পারভেঝকে ‘চোর’ অপবাদ দিয়ে কয়েকজন মিলে পিটিয়ে হত্যা করেছে। তাঁরা দাবি করেন, পারভেজ এলাকায় শ্রমিক।
ঘটনাস্থলের আশপাশের কয়েকজন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গত রোববার (২৩ নভেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ রশিদের ভাই মেসবাহ উদ্দিনের নির্মাণাধী দোতলা বাড়িতে বৈদ্যুতিক তাঁর চুরির অভিযোগে পারভেজকে আটক করে মারধর করে। চোর চোর চিৎকার শুনে লোকজন বাসা থেকে বের হয়ে আসে। পরে এলাকজন গণপিটুনি দিয়ে দেয়, গুরুতর অবস্থায় হাসপাতপালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।
পারভেজের বাড়ির প্রতিবেশী রুমা আক্তার বলেন, রাতে তারা চোর চোর চিৎকার শুনে বাসা থেকে গয়ে লোকজনের জটলা দেখতে পারে। সেখানে একজনকে পেটানো হয়েছে।
অপর পারভেজের প্রতিবেশী নাজমা আক্তার বলেন, পারভেজ নির্মাণ শ্রমিকেরা কাজ করতো। তাকে কোন খারাপ কাজে জড়িত হতে দেখি নাই। তিনি বলেন, কেউ অপরাধী হলেও তাকে এভাবে পিটিয়ে হত্যা করা এটা কোন মানবিক কাজ হতে পারে না। জড়িতদের আইনের আওতায় আনা উচিত।
অপর প্রতিবেশী লতিফ মিয়া বলেন, তাদের এলাকায় চুরি, ছিনতাইসহ অপরাধমূলক ঘটনা বেড়েছে। ওইদিন একটি নির্মাণাধীন বাড়ি থেকে বৈদু্যুতিক তার চুরির অভিযোগে একজনকে আটক করে মারধর করে। মারধর এলাকার অনেকেই অংশ নেন।
এ বিষয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলী জানান, চোর আখ্যা দিয়ে যুববকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় এখনো কোন মামলা দায়ের করা হয়নি। নিহতের মরদেহ দাফন শেষে স্বজনেরা থানায় মামলা করতে আসবেন বলে জানান তিনি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা পলাতক রয়েছে, তাদেরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা হয়েছে। তিনি বলেন, নিহত পারভেজের বিরুদ্ধে মাদকের ছয়টি মামলা রয়েছে। ওই দিন কী কারণে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।