নারায়ণগঞ্জ নগরীর মাসদাইর এলাকায় র্যাব সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফতুল্লায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে র্যাব-১১ ও ফতুল্লা থানা পুলিশ। অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, দেশীয় অস্ত্র, নগদ সাড়ে ১১ লাখ টাকা, টাকা গোনার মেশিন ও একটি ড্রোন উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন ১৩ জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এ বিষয়ে বুধবার (৬ মে) সকালে আদমজীতে র্যাব-১১’র সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১১ এর অধিনায়ক লে: কর্ণেল এ এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন জানান, মঙ্গলবার দুপুরে শহরের বোয়ালিয়া খাল লিচুবাগ এলাকায় র্যাবের অভিযানে হামলা ও তিনজনকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনার পর থেকে সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় রাতে দেওভোগ নূর মসজিদ এলাকায় একটি ছয় তলা ও একটি দুই তলা বাড়িতে অভিযান চালায় র্যাব। এসময় দুই বাড়িতে তল্লাশি করে মাদকের আস্তানা থেকে ৬ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ১০টি ছুরি-চাকু, চাইনিজ কুড়াল ০৭টি, রামদা ২টি, চাপাতি ৩টি, সিসি ক্যামেরা ৪টি, ড্রোন ১টি, নগদ ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৫০০ টাকা, ২৩৫ কেজি গাঁজা এবং ১১ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) রাত ৯টার দিকে ফতুল্লার পশ্চিম দেওভোগ নূর মসজিদ এলাকায় একটি ছয়তলা ও একটি দুইতলা বাড়িতে যৌথ অভিযান চালানো হয়। রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত ছিল বলে জানিয়েছে র্যাব।
আটককৃতরা হলেন – মোঃ সোহেল রানা (৪০), মোঃ আঃ রাজ্জাক (৪০), জোবায়ের হোসেন (২২), মোঃ শামিম আহম্মদ (২২), মিঠুন (৩৪), মোঃ ইমন প্রধান (২৬), মোঃ আকাশ (৩০), মোঃ রুবেল (৩৭), মোঃ আরাফাত হোসেন (২৮), মোঃ সুজন (৩২), মোঃ হৃদয় মিয়া (৩২), মোঃ টুটুল খান (৩৮), মোঃ রেজাউল করিম (৪৮)। তারা সকলে মাসদাইর এলাকার মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী।
র্যাব সূত্র জানায়, এর আগে একই দিন দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শহরের মাসদাইর বোয়ালিয়া খাল লিচুবাগ এলাকায় গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে গেলে র্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালায় মাদক কারবারিরা। হামলায় র্যাব সদস্য ইব্রাহিম, মাহী ও নাজিবুলকে কুপিয়ে আহত করে সন্ত্রাসীরা। পরে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত র্যাব ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে অভিযান শুরু করা হয়।