সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সিদ্ধিরগঞ্জে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৫৬ জনের বিরুদ্ধে পুলিশের মামলা : গ্রেপ্তার ২ (তালিকাসহ) আব্দুর রশিদের হামলায় গুরুতর আহত বৃদ্ধ, মাথায় ১১ সেলাই-অভিযোগ রাষ্ট্রীয় পদক পাওয়া ডুবুরি সাদিকের মৃ.ত্যু নারায়ণগঞ্জে পরীক্ষা শেষে মিছিলে শিক্ষার্থীরা: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি তিন ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে আদমজী ইপিজেডের অনন্ত অ্যাপারেলসের গোডাউনের আ.গুন শিক্ষামন্ত্রী স্ট্যান্টবাজি ও টেন্ডারবাজিতে ওস্তাদ: হাসনাত আব্দুল্লাহ রথযাত্রায় নিরাপত্তা দিতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ মামুন মাহমুদের র‍্যাব সদস্যদের ওপর হা.ম.লা: কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার গিট্টু রিপন ফতুল্লায় অবৈ.ধ গ্যাস সংযোগ দিতে গিয়ে বি.স্ফো.র.ণ : দ.গ্ধ ৪ দুই ডা.কা.তি মামলায় সংঘ.বদ্ধ চ.ক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার: স্বর্ণালংকার ও শট.গান উদ্ধার

পিতার ওপর প্রতিশোধ নিতে ফতুল্লায় শিশু পুত্রকে অপহরণ করে হত্যা

ফতুল্লা প্রতিনিধি
  • Update Time : বুধবার, ১৯ মার্চ, ২০২৫
  • ৩৪২ Time View

পিতা হাশিম মিয়ার ওপর প্রতিশোধ নিতে তার ৭ বছরের শিশু পুত্র মুস্তাকিনকে অপহরন করে হত্যা ও লাশ গুম করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৯ মার্চ) জেলা ও ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ এ তথ্য জানায়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ফতুল্লা থানার লামাপাড়া দরগাহ বাড়ী মসজিদ সংলগ্ন সালাম মিয়ার ভাড়াটিয়া ওবায়েদউল্লাহ বাবুর পুত্র তানজীল (২৪) ও একই বাড়ীর ভাড়াটিয়া মৃত ফরজুল ইসলামের পুত্র নুর মোহাম্মদ ওরফে শাহ আলম (২০)।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা ও নিহত শিশুর পরিবার পাশাপাশি ভাড়া বাসায় থাকতো। একটি মোবাইল নিয়ে তানজিলের সাথে নিহত শিশু মুস্তাকিনের বাবা হাশিম মিয়ার সাথে ঝগড়া হয়। এতে করে তানজিল তার একই বাসার ভাড়াটিয়া সহযোগী নুর মোহাম্মদ ওরফে শাহ আলমকে নিয়ে শিশুটিকে অপহরন করে হত্যার পরিকল্পনা করে। সেই পরিকল্পনামতে প্রথমে তারা ফতুল্লা ডিআইটি মাঠ থেকে ৪৫০ টাকা দিয়ে একটি সুইচ গিয়ার (চাকু) কিনে। এরপর ৫ জানুয়ারী সন্ধ্যায় প্রথমে তানজিল শিশুটির হাতে ২০ টাকা দিয়ে পায়ে হাঁটিয়ে রাস্তায় এনে দুটি চিপস কিনে দিয়ে অটোরিক্সা করে ফতুল্লা গুদারাঘাট দিয়ে কেরানীগঞ্জের কাওটাইল এলাকায় যায়।

সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর ঐ এলাকার বাইতুল জান্নাত জামে মসজিদের পেছনে ঝোপের ভিতরে নিয়ে গিয়ে শিশুটির মুখে কস্টেপ পেচিয়ে মাটিতে শুইয়ে দেয় নুর মোহাম্মদ ওরফে শাহ আলম। এ সময় তানজীল তার সাথে থাকা সুইচ গিয়ার দিয়ে শিশুটিকে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে লামাপাড়াস্থ বাসায় চলে আসে।

এদিকে, শিশুটিকে না পেয়ে তার পরিবার যখন সন্ধান চেয়ে মাইকিং করেছিলো, ঘাতকরাও সে সময় মাইকিং করে। ঘটনার দুদিন পর তারা তাদের নিজ গ্রামের বাড়ি ময়মনসিং চলে যায়। ঘটনার ১৩ দিন পর ১৮ জানুয়ারী দুপুরে শিশুটির পরিবার লোক মারফত জানতে পারে যে, কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। কোন পরিচয় না পাওয়ায় লাশটি অজ্ঞাত নামা হিসেবে দাফন করা হয়।

পরবর্তীতে ২০ জানুয়ারী কেরানীগঞ্জ থানায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। অপরদিকে শিশুটির বাবা ৬ জানুয়ারী ফতুল্লা মডেল থানায় একটি নিখোঁজ সাধারন ডায়েরী করেন। পরবর্তীতে নিখোঁজ শিশুটির সন্ধান না পেয়ে শিশুটির বাবা ১৪ ফেব্রুয়ারি ফতুল্লা মডেল থানায় একটি অপহরন মামলা দায়ের করেন।

সেই মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকান্ডের ৭২ দিন পর ১৮ মার্চ সকাল নয়টার দিকে ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল থানার নান্দাইল উপজেলার সামনে থেকে প্রথমে নুর মোহাম্মদ ওরফে শাহ আলমকে পরে দুপুরে একই জেলার ফুলবাড়িয়া থানার কাচিজোড়া থেকে তানজিলকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের দেখানো মতে পুলিশ রাত ৮ টার দিকে ফতুল্লা থানার লামাপাড়াস্থ তানজিদের বাসা থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত সুইচ গিয়ারটি উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে নারায়নগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) “ক” সার্কেল হাসিনুজ্জামান জানান, শিশুটির বাবার উপর প্রতিশোধ নিতেই ফতুল্লা থেকে শিশুটিকে অপহরন করে নদীর ওপারে কেরানীগঞ্জ থানার কাওটাইল এলাকায় নিয়ে হত্যা করা হয়। সেখানকার পুলিশ নিহত শিশুটির লাশ উদ্ধার করে পরিচয় না পেয়ে অজ্ঞাতনামা হিসেবে দাফন করে এবং পুলিশ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।

এদিকে গ্রেপ্তারকৃতদের তথ্যমতে কেরানীগঞ্জ থানায় যোগাযোগ করা হলে শিশুটির পরিবার থানায় গিয়ে পুলিশের নিকট রক্ষিত নিহত শিশুর জামা কাপড় থেকে পরিচয় সনাক্ত করা হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
Translate »