সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সোনারগাঁয়ে যুবককে কু.পি.য়ে হ.ত্যা শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহম্মেদ পলাশের ক্যাশিয়ার টিক্কা গ্রেফতার সিদ্ধিরগঞ্জে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৫৬ জনের বিরুদ্ধে পুলিশের মামলা : গ্রেপ্তার ২ (তালিকাসহ) আব্দুর রশিদের হামলায় গুরুতর আহত বৃদ্ধ, মাথায় ১১ সেলাই-অভিযোগ রাষ্ট্রীয় পদক পাওয়া ডুবুরি সাদিকের মৃ.ত্যু নারায়ণগঞ্জে পরীক্ষা শেষে মিছিলে শিক্ষার্থীরা: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি তিন ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে আদমজী ইপিজেডের অনন্ত অ্যাপারেলসের গোডাউনের আ.গুন শিক্ষামন্ত্রী স্ট্যান্টবাজি ও টেন্ডারবাজিতে ওস্তাদ: হাসনাত আব্দুল্লাহ রথযাত্রায় নিরাপত্তা দিতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ মামুন মাহমুদের র‍্যাব সদস্যদের ওপর হা.ম.লা: কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার গিট্টু রিপন

ধর্ষ.ণচেষ্টার অভিযোগে যুবককে তুলে নিয়ে মা.র.ধ.র: হাসপাতালে মৃ.ত্যু

স্টাফ রিপোর্টার
  • Update Time : সোমবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২২৪ Time View

শহরের খানপুরে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে এক যুবককে তুলে নিয়ে বেধড়ক মারধরের ৮ ঘণ্টা পর তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহতের নাম আবু হানিফ (৩০)। তিনি পেশায় একজন নিরাপত্তা প্রহরী এবং বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার আবুল কালামের ছেলে। রোববার (২০ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবু হানিফ মারা যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শাহাদাত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিকেল ৩টার দিকে স্থানীয় কয়েকজন গুরুতর আহত অবস্থায় হানিফকে হাসপাতালে নিয়ে আসে এবং রেখে চলে যায় বলে জানান চিকিৎসক।
ডা. শাহাদাত বলেন, “রোগীকে গুরুতর আহত অবস্থায় ভর্তি করা হয়। শরীর ও মাথায় প্রচণ্ড আঘাতের চিহ্ন ছিল। সন্ধ্যার পর পরিবারের লোকজন হাসপাতালে আসেন।”

নিহতের মেজো বোন রাবেয়া বলেন, “দুপুরে ভাই বাসায় বিছানায় শুয়ে ছিল। হঠাৎ কয়েকজন ছেলে এসে মারতে মারতে নিয়ে গেল। আমাদের কোনো কথা শুনল না। পরে শুনছি, নাকি ভাই একটা বাচ্চারে ধর্ষণ করতে চেয়েছিল। কিন্তু কোন মেয়ে, কবে কিছুই জানি না।”

নিহত হানিফের ভগ্নিপতি মো. ইব্রাহিম জানান, “দুপুরে ডিউটিতে থাকাকালীন ফোনে জানতে পারি কিছু যুবক ঝামেলা করছে। বাসায় এসে কাউকে পাইনি। কিছুক্ষণ পর আবার ফোন পেয়ে গেলে দেখি, কিছু যুবক আমার স্ত্রীকে ধমকাচ্ছে। পরে তারা আমাকেও ধরে ওয়াসা অফিসের সামনে নিয়ে যায়। সেখানে দেখি হানিফ ভাইকে বসিয়ে রেখেছে। ১০-১২ জন যুবক ছিল। তাদের মধ্যে পাশের বাড়ির অভি নামে একজনকে চিনেছি। পরে তারা হানিফ ভাইকে অটোতে তুলে নিয়ে যায়। অনেক পরে আমরা তাকে হাসপাতালে পাই।”

হানিফ খানপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। তার স্ত্রী ও তিন সন্তান কয়েকদিন আগে গ্রামের বাড়ি গেছেন বলে স্বজনরা জানান।

হাসপাতাল চত্বরে কাঁদতে কাঁদতে নিহতের বাবা আবুল কালাম বলেন, “আমার ছেলে অপরাধ করলে আইন তাকে শাস্তি দিতো। কিন্তু এভাবে মেরে ফেলল কেন আমি এর বিচার চাই।”

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ বলেন, “দুপুরে হানিফের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ এনে স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে খানপুর জোড়া ট্যাংকি এলাকায় মারধর করে। পরে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে রাতে তার মৃত্যু হয়।”

তিনি আরও বলেন, “ নিহত যুবকের বিরুদ্ধে থানায় পূর্বে ধর্ষণচেষ্টার কোনো অভিযোগ হয়নি। আমরা হাসপাতালে মরদেহ পাই। তবে ধর্ষণের কোনো চেষ্টা হয়েছিল কিনা, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে, তদন্ত চলছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
Translate »