আড়াইহাজারে ভাবীর কাছে টাকা ধার চেয়ে না পেয়ে ভাবী ও ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যা দায়ে দেবর সাদিকুর রহমানকে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবু শামীম আজাদ এই রায় ঘোষনা করেন। বৃহস্পতিবার রায়ের এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মোঃ আব্দুল কাইয়ুম খান।
আদলেতের নথি সুত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২ জুলাই রাতে দেবর সাদিকুর রহমান ভারী রাজিয়া সুলতানা কাকলীর কাছে টাকা ধার চায়। ভাবী রাজিয়া টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাদের মধ্যে কথাকাটাটির এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ দেবর সাদিকুর রহমান ধারালো বটি দিয়ে কুপিয়ে রাজিয়াকে কুপিয়ে হত্যা করে। বিষয়টি দেখে ফেলায় রাজিয়ার ছেলে তালহা (৮) কেও কুপিয়ে হত্যা করে। পরে আলমারিতে রাখা স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনার পরের দিন নিহত রাজিয়া সুলতানা কাকলীর মা তাসলিমা বেগম বাদি হয়ে আড়াইহাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় পুলিশ তদন্ত করে দেবর সাদিকুর রহমানের সংশ্লিষ্টতা পেয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে সাদিকুর রহমান হত্যার দায় স্বীকার করে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানন্দি প্রদান করে। পুলিশ তদন্ত শেষে সাদিকুর রহমানকে আসামী করে আদালতে অভিযাগপত্র দাথিল করে। পরে আদালত সাক্ষ্য প্রমাণ ও যুক্তিতর্ক শেষে বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামী সাদিকুর রহমান আদালতে উপস্থিত ছিলো।
নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের জানান, দেবর সাদিকুর রহমান ছিলো নেশাগ্রস্থ। রাজিয়ার স্বামি বিদেশে ছিলো। দুই বছর আগে মারা যায়। সে কারনে তার ধারনা ছিলো ভাবী রাজিয়ার কাছে অনেক টাকা পয়সা আছে। তাই তার বাসায় ঢুৃকে ভাবীর কাছে টাকা পয়সা চেয়ে না পেয়ে ভাবী ও ভাতিজাকে নৃশংশ ভাবে হত্যা করে।