ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের যাচাই-বাছাই শেষে নারায়ণগঞ্জের পাচঁটি সংসদীয় আসনের ৫৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩৬ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ, ১৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল এবং ৪ জনের মনোনয়নপত্র স্থগিত ঘোষণা করেছে রিটার্নিং অফিসার। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে দশটা থেকে শুরু করে দুপুর দুইটা পর্যন্ত চলে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের নেতৃত্বে প্রার্থী ও প্রার্থীদের মনোনীত ব্যক্তি ও আইনজীবীদের উপস্থিতিতে চলে এ বাছাই কার্যক্রম।
রিটানিং কর্মকর্তা জানান, ঋণ খেলাপি, মনোনয়নপত্র পূরণে ত্রুটি, হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকা, আয়কর রির্টান বকেয়া, হোল্ডিং বকেয়া, তিতাস গ্যাসের বিল বকেয়া থাকায় এসব প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল ও স্থগিত করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী দুলাল হোসেন এক শতাংশ স্বাক্ষর সঠিক না থাকায় এবং হলফলনামায় স্বাক্ষর না থাকায় সিপিবি প্রার্থী চন্দন সাহা’র মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) সাবেক সংসদ সদস্য ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান আঙ্গুর ও জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ইলিয়াছ মোল্লার আয়কর বকেয়া থাকায় মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া রিপাবলিকান পার্টি, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীসহ ছয়জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জে) আসনের সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক মোহাম্মদ রেজাউল করিমের মনোনয়নপত্রের ২০ ও ২১ নম্বর পূরণ না করায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা ) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সালাউদ্দিন খোকা তিতাস গ্যাসের বিল বকেয়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী ফাতেমা মনিরের ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সঠিক না থাকা, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী আরিফ ভুঁইয়া মনোনয়ন ফরম ত্রুটিপূর্ণ, সিপিবি ইকলাল হোসেনের তথ্য গোপন, সুপ্রিম পার্টির সেলিম আহমেদের হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
এছাড়া রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মাদ আলীর প্রায় ১৩ লাখ টাকা তিতাস গ্যাসের বিল বকেয়া থাকায় তার মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর -বন্দর) স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেন হোল্ডিং টেক্স বকেয়া এবং আয়কর রিটার্ন বকেয়া থাকায় এবং নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, বিএনপির নেতা আবু জাফর আহম্মেদ বাবুলের দলীয় মনোনয়নপত্র না থাকায় এবং গণঅধিকার পরিষদের নাহিদের হলফনামায় সম্পূর্ণ তথ্য না থাকায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
মনোনয়নপত্র স্থগিতদের ব্যাপারে বিকাল চারটায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান রিটানিং কর্মকর্তা।