নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের হাউজিং এলাকার একটি বাড়ির সার্ভিস লাইনের তার কাটার সময় জনি (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করার দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের চুরির সঙ্গে জড়িত। তবে জনির পরিবারের দাবি, তিনি নির্দোষ এবং পূর্বশত্রুতার জেরে তাকে ফাঁসানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিদ্ধিরগঞ্জ হাউজিংয়ের ৭ নম্বর সড়কে হাজী নজরুল ইসলামের বাড়ির সার্ভিস লাইনের তার কাটার সময় জনিকে সন্দেহজনক অবস্থায় দেখতে পান এলাকাবাসী। পরে তাকে আটক করে হাউজিং কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। খবর পেয়ে আশপাশের বাসিন্দারা সেখানে জড়ো হন।
হাউজিং এলাকার বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমাদের এলাকায় বাড়ির সার্ভিস লাইনের তার, বৈদ্যুতিক ওয়্যারিংয়ের তার, এসির তামার পাইপসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র চুরির ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় আমরা অতিষ্ঠ। জনির বিরুদ্ধে এলাকার বিভিন্ন বাসিন্দার অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।”
স্থানীয়দের দাবি, অতীতে ঘটে যাওয়া বহু চুরির ঘটনায় জনির নাম উঠে এসেছে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অভিযোগগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে থানায় গড়ায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, আটকের পর জনির স্বজন ও পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি ঘটনাস্থলে আসেন। পরে তাকে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা এবং আর্থিক সুবিধা আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, জনির চাচাতো ভাই ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান সেন্টু ঘটনাস্থলের বাড়ির মালিক হাজী নজরুল ইসলামের কাছে বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে ৪ লাখ টাকা দাবি করেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে কামরুল হাসান সেন্টুর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জনির চাচাতো ভাই ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান সেন্টু বলেন, “আমার ভাই সম্পূর্ণ নিরপরাধ। তিনি কোনো চুরির সঙ্গে জড়িত নন। কিছু লোক পূর্বশত্রুতার জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করলেই সত্য বেরিয়ে আসবে।”
ঘটনার পর জনির বাবা আয়নাল হক সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেছেন, তার ছেলেকে অন্যায়ভাবে আটকে রেখে মারধর করা হয়েছে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, জনিকে সার্ভিস লাইনের তার কাটার সময় হাতেনাতে আটক করা হয়েছিল এবং বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এএসআই ছাব্বিত হোসেন বলেন, “ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। আমি তখন অভিযুক্ত জনিকে পাইনি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়রা চুরির অভিযোগ, মারধরের অভিযোগ এবং অর্থ দাবির অভিযোগ—সবকিছুই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।