বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ১১:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সিদ্ধিরগঞ্জে পুলিশের ওপর হা.ম.লার মামলায় ৪ জনসহ ৭ আসামি গ্রেপ্তার ফতুল্লায় নির্মাণাধীন ভবন থেকে লু.ট হওয়া পি.স্ত.ল উদ্ধার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক করতে যাওয়ায় স্বামীর গোপনাঙ্গ কাটলো স্ত্রী নারায়ণগঞ্জ পুলিশে গোপালগঞ্জের বাসিন্দাদের তালিকা চাইলেন এমপি মান্নান: দিলেন তিতাস কর্মকর্তাদের পি.টা.নোর অর্ডার সোনারগাঁওয়ে স্কুলছাত্রীকে লা.থি মা.রা সেই কিশোর আটক ফতুল্লায় বন্ধ গোডাউন থেকে গলিত লা.শ উদ্ধার : আটক ২ বন্দরে গ্যাস লিকেজে আ.গুন: দ.গ্ধ শিশুর মৃ.ত্যু: শ.ঙ্কায় বাবা-মা আমের ক্যারেটে ফেন.সিডি.লের বিকল্প ফেয়ার.ডিল: র‌্যাবের জালে ট্রাকসহ গ্রেপ্তার ১ তোলারাম কলেজে বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল-শিবির সং.ঘ.র্ষ : আ.হ.ত ৫ সিদ্ধিরগঞ্জে দিনমজুরকে আ.টকে ২ লাখ টাকা চাঁ.দা দাবি: ছাত্রদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ৭

সোনারগাঁওয়ে প্রতিবন্ধী অটোরিক্সা চালক হ.ত্যা: চারদিনে রহস্য উদঘাটন পিবিআইয়ের: গ্রেফতার ৫

সোনারগাঁও প্রতিনিধি
  • Update Time : শনিবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৮৮ Time View

সোনারগাঁওয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী অটোরিকশাচালক মো. সোহেল (৪১) হত্যাকাণ্ডের মাত্র চার দিনে ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত দু’জনসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাইকৃত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাটি।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ।

তিনি জানান, আর্থিক সংকটের কারণে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সোহেলকে হত্যা করে তার অটোরিকশা ছিনতাই করা হয়। পরে সেটি চোরাই বাজারে বিক্রি করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জানুয়ারি দুপুর আড়াইটার দিকে প্রতিদিনের মতো অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন সোহেল। কিন্তু সেদিন আর তিনি ফিরে আসেননি। মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।

পরদিন ২০ জানুয়ারি সকালে স্থানীয়দের মুখে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা সোনারগাঁও উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের মুছারচর এলাকায় যান। সেখানে একটি রাস্তার পাশের ঢালে পড়ে থাকা মরদেহটি সোহেলের বলে শনাক্ত করেন তারা।

নিহতের ভাই মো. মহাসিন মিয়া জানান, “আমার ভাই শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিল। অটোরিকশা চালিয়েই সংসার চলত। ওর সঙ্গে কারও শত্রুতা ছিল না। শুধু অটোর জন্যই ওকে এভাবে মেরে ফেলেছে।”

মরদেহের নাক, মুখ ও দুই হাত স্কচটেপ দিয়ে বাঁধা ছিল। কপাল ও পিঠের নিচে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।

পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। গ্রেপ্তার হওয়া আসামি মো. সুজন মিয়া (৩৩) ও মো. শফিকুল ইসলাম হীরা (৩৯) স্বীকার করেছেন, টাকা-পয়সার অভাবে তারা সোহেলের অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন।

এর আগে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার, রূপগঞ্জ ও সোনারগাঁও এলকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।ক

১৯ জানুয়ারি বিকেলে নানাখীবাজার থেকে আনন্দবাজার যাওয়ার কথা বলে সোহেলের অটোরিকশা ভাড়া নেন তারা। পথে একটি দোকান থেকে স্পিড পানীয় ও কাশির সিরাপ কিনে তা মিশিয়ে নেশাজাতীয় দ্রব্য তৈরি করা হয়। কৌশলে সেই পানীয় বেশি পরিমাণে সোহেলকে খাওয়ানো হয়।

সন্ধ্যার পর মুছারচরের দিকে যাওয়ার পথে নির্জন স্থানে সোহেল অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে পেছনের সিটে বসানো হয়। পরে স্কচটেপ দিয়ে নাক-মুখ ও হাত বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ ফেলে রেখে অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যান তারা।

তদন্তে জানা যায়, হত্যার পর অটোরিকশাটি রূপগঞ্জের ভুলতা এলাকায় একটি গ্যারেজে রাখা হয়। পরদিন সেটি বিক্রি করা হয়। এ ঘটনায় অটো কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন— মো. দুলাল মিয়া (৪৫), মো. আব্দুর রহিম মিয়া (৫৫), মো. আবুল কাশেম (৪০)।

পিবিআই জানায়, এই তিনজন দীর্ঘদিন ধরে চোরাই ও ছিনতাইকৃত অটোরিকশা কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত—এমন তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে।

পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ (বিপিএম) বলেন, “নিহত ব্যক্তি শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিলেন। এ ধরনের নির্মম হত্যাকাণ্ড আমাদের সবাইকে নাড়া দিয়েছে। আমরা দ্রুততম সময়ে রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার পাঁচ আসামিকে আজ ২৪ জানুয়ারি দুপুরে আদালতে হাজির করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
Translate »