সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক এলাকায় কোরেশ বাংলাদেশ লিমিটেড নামের একটি গার্মেন্টসের শতাধিক শ্রমিক ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। কারখানা কর্তৃপক্ষ পাওনাদি না দিয়ে শ্রমিক ছাঁটাই করার অভিযোগ এনে শ্রমিকরা এ বিক্ষোভ করে।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মৌচাক এলাকায় এসে তারা এ অবরোধ সৃষ্টি করেন। অবরোধের ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে শত শত যানবাহন মহাসড়কে আটকা পড়লে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে শ্রমিকদেরকে বুঝিয়ে প্রায় এক ঘন্টা পর মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মহম্মদ আব্দুল বারিক।
শ্রমিক ও স্থানীয়রা জানায়, কোরেশ বাংলাদেশ লিমিটেড নামক একটি গার্মেন্টস কারখানার ৭০ শ্রমিককে ছাঁটাই করে। কিন্তু ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের তারা পাওনাদি পরিশোধ করেননি। এতে ছাঁটাইকৃত শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়। পরে তারা অন্যান্য শ্রমিকদের নিয়ে তাদের পাওনা টাকা পরিশোধের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মৌচাক এলাকায় এসে অবরোধ সৃষ্টি করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে এ মহাসড়কে উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়লে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ ও শিল্প পুলিশ এসে তাদের পাওনাদি আদায় করে দেয়ার আশ্বাস দিলে তারা ৫০ মিনিট পর মহাসড়ক থেকে সরে যায়। পরে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল শুরু হয়।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মহম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, শ্রমিকরা ৪০ মিনিট মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছিল। শ্রমিকদেরকে বুঝিয়ে আমরা রাস্তা থেকে সরিয়ে দিয়েছি। শিল্পাঞ্চল পুলিশ-৪’র নারায়ণগঞ্জ জোনের পরিদর্শক (ইন্টেলিজেন্স) সেলিম বাদশা বলেন, ৭০ জন শ্রমিককে কারখানা কর্তৃপক্ষ ছাঁটাই করে। এদের বেতনের টাকা পরিশোধ করা হয়। এর আগে তিনদিন কারখানা কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করেছিল। এই তিনদিনের ছুটির টাকা দাবি করে ছাঁটাইকৃত শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ সৃষ্টি করেছিল। পরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এ বিষয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তাদের পাওনাদি পরিশোধের আশ্বাস দেয়া হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তিনি আরো বলেন, শতাধিক শ্রমিক ৩০ মিনিট মহাসড়কে অবস্থান করেছিল। এরা শুধু চট্টগ্রামমুখী লেনে অবরোধ করেছিল।