“জুলাই আমাদের শিখিয়ে গেছে- ঘৃণার রাজনীতি আর চলবে না। নতুন বাংলাদেশ হবে জনগণের, যেখানে থাকবে না বৈষম্য ও অন্যায়-অবিচার।” শুক্রবার (১৮ জুলাই) নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া শহীদ মিনারে ‘গণসংহতি আন্দোলনের সমাবেশ ও শহীদি মার্চ’ অনুষ্ঠানে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি এসব কথা বলেন।
গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়কারী তরিকুল সুজনের সভাপতিত্বে এবং নির্বাহী সমন্বয়কারী অঞ্জন দাসের সঞ্চালনায় উক্ত সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিটির সমন্বয়কারী বিপ্লব খাঁন, নির্বাহী সমন্বয়কারী পপি রাণী সরকার, জেলা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী আলমগীর হোসেন আলম, প্রচার সম্পাদক শুভ দেব, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের জেলার সভাপতি ফারহানা মানিক মুনা, দলের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়াউর রহমান, ফতুল্লা থানার যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল আল মামুন প্রমুখ।
জোনায়েদ সাকি বলেন, “আমরা দেখেছি, কিছু মানুষ ক্ষমতার অপব্যবহার করে সম্পদ ও প্রভাব বাড়াচ্ছে। কেউ প্রকাশ্যে, কেউ গোপনে। কিন্তু জনগণের অধিকার ও মর্যাদাহীন এই ব্যবস্থা চলতে পারে না। নতুন একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার দরকার, যেখানে জনগণের মতামত ও অংশগ্রহণের ভিত্তিতে দেশ চলবে।”
সাকি বলেন, “২০২৪ সালের ঘটনার দিকে তাকালেই বোঝা যায়, ঘৃণা আর দমন-পীড়নের রাজনীতি দেশকে কোথায় নিয়ে গেছে। আমরা চাই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায্য সমাজব্যবস্থা। এটাই জুলাইয়ের বার্তা।”
জোনায়েদ সাকি বলেন, “সংবিধান, বিচার ও সংস্কারের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ কাজ করতে হলে জনগণের সম্মতির ভিত্তিতে নির্বাচন জরুরি। জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই পরিবর্তন সম্ভব নয়।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের জনগণ, বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষরাই দেশের আসল শক্তি। তাদের মর্যাদা দিতে হবে। ধর্ম, পেশা, অঞ্চল—সব ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে সমান নাগরিক মর্যাদা দিতে হবে।”
সাকি বলেন, “আমরা আজ একটি জাতীয় সংকটে আছি। দেশের ভেতরে ও বাইরে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। সেই ষড়যন্ত্র রুখে আমাদের ঐক্য ধরে রাখতে হবে। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি, তাহলে জনগণের বিজয় নিশ্চিত।”