সিদ্ধিরগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগ এবং যুবলীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। মামলায় ৪০ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৮০ থেকে ৯০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। একই ঘটনায় ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতিকালে আটক ১২ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) সকালে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ শাহ আলম বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধনী-২০১৩) এর ৬/১০/১১/১২ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুন দুপুর আনুমানিক ২টা ৪৫ মিনিটে সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক ইউটার্ন এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা গোপনে জড়ো হয়ে ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় তারা সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং দেশের অখণ্ডতা, সংহতি ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে পাঁচটি উস্কানিমূলক পোস্টার জব্দ করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মামলার অন্যান্য আসামিরা পালিয়ে যান।
গ্রেপ্তাররা হলেন, মো. সোহাগ (১৯), আনিস সরকার (১৮), মো. সাব্বির হোসেন (২০), মো. আবির হোসেন (২৭), তন্ময় (১৮), ওয়ালিদ (১৮), মাহফুজ আলম (১৮), আবিদ (১৮), ইমতিয়াজ আহমেদ ইমন (১৮), তাওহিদ ইসলাম (১৮), মো. রিয়াদ (১৮) ও মো. সোহেল (১৯)।
মামলায় নাম উল্লেখ করা অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সজল কুণ্ড, দনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তাসরিফ আল নোমান, নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি শিব্বির, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি পদপ্রার্থী শফিকুল ইসলাম শফিক, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক ভূঁইয়া রাজু এবং থানা তাঁতি লীগের সভাপতি লিটন ওরফে গুজা লিটনসহ আরও অনেকে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, “মিছিলের প্রস্তুতিকালে আটক ১২ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের যেকোনো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করা হবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের অভিযান চলমান থাকবে।”