নাসিক-এর সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভীর হাইকোটে জামিন আটকাতে দুটি মামলায় শোন এ্যারেষ্ট দেখাতে আবেদন করেছে পুলিশ। ফতুল্লা থানায় দায়ের করা ইয়াছিন হত্যা মামলা এবং সদর থানায় দায়ের করা পুলিশের কাজে বাধা প্রদানের মালায় সোমবার (১০ নভেম্বর) এই আবেদন করা হয়। নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন জানান, আইভীকে গ্রেফতারে সময় পুলিশের কাজে বাধা প্রদানের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় পুলিশ বাদি হয়ে অজ্ঞাত একশ থেকে ১৫০ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়েরে করে। ওই মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা আইভীকে পুলিশের কাজে বাধা প্রদানের মামলায় শোন এ্যারেষ্ট দেখানোর আবেদন করে।
অপরদিকে ফতুল্লা থানায় দায়ের করা ইয়াছিন হত্যা মালায় শোন এ্যারেস্ট দেখানো জন্য আবেদন জানানো হয় বলে বিষটি নিশ্চিত করেছেন ফতুল্ল মডেল থানার ওসির দায়িত্বে থাকা ইন্সপেক্টর আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা তদন্তে করতে গিয়ে এই মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি কপোরেশনের সাবেক মেয়র ডাক্তার সেলিানা হায়াৎ আইভীর সম্পৃক্ততা খুজে পাওয়ায় তাকে এই মামলায় শোন এ্যারেষ্ট দেখাতে আবেদন করেন। ফতুল্লা থানার ৩০-৮-২০২৪ ইং তারিখে এই হত্যা মামলাটি দায়ের করা হয়।
মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তাদের আবেদনের প্রক্ষিতে আগামী ১৩ নভেম্বর পুলিশের কাজে বাধা প্রদান ও ফতুল্লা ইয়াছিন হত্যা মামলায় সাবেক মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভীকে শোন এ্যারেষ্ট করার বিষয়ে পুলিশের আবেদনের উপর শুনানী দিন ধার্য করেছে আদালত। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ আদালতের পরিদর্শক মো: কাউয়ুম খান।
গত ৯ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ৫টি মামলা জামিন দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন বলেছিলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পোশাক শ্রমিক মিনারুল হত্যা মামলা সহ ৫টি মামলায় তার জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ইন্সিপেক্টর (তদন্ত ) জামাল উদ্দিন জানান, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালিন সময়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয় পোষাক শ্রমিক মিনারুল ইসলাম। ওই মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভীসহ শতাধিক মানুষকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় চলতি বছরের ৮ মে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পুলিশ নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ চুনকা কুটিরে আইভীকে গ্রেফতার করতে যায়। ওই সময় আইভীর নির্দেশে স্থানীয় ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ আইভীর অনুগত লোকজন পুলিশের কাজে বাধা প্রদান করে। রাতভর পুলিশকে আটকে রেখে ৯ মে ভোরে পুলিশ আইভীকে আটক করে জেলা পুলিশের কার্যালয়ে নেয়ার পথে বিবি রোডের কালিবাজার এলাকায় গেলে আইভীর অনুসারিরা পুলিশের গাড়িবহরে হামলা চালায়, ইটপাটকেল ছুড়ে মারে। এতে কয়েকজন পুলিশ ও পুলিশের গাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এ ঘটনায় পুলিশের এস আই মিলন কুমার হওলাদার বাদি হয়ে পুলিশের কাজে বাধা প্রদানের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করছেন এস আই রমজান হোসেন। রমজান হোসেন ছুটিতে থাকায় তার পক্ষে (ইন্সপেক্টর তদন্ত জামাল উদ্দিন) আদালতে ওই মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামীকে শোন এ্যারেষ্ট দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করেন ওসি তদন্ত।
পোষাক শ্রমিক মিনারুল হত্যায় গ্রেফতারের পর ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় আইভীর বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালিন সময়ে হত্যা ও হত্যার চেষ্টাসহ মোট পাচঁটি মামলায় শোন এ্যারেষ্ট দেখানো হয়। প্রায় ছয় মাস ধরে কারাগারে বন্দি আছেন সাবেক মেয়র আইভী। দীর্ঘ সময় কারাগারে বন্দি অবস্থায় আইভীর আইনজীবির আবেদনের প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা পাচঁটি মামলায় উচ্চ আদালত রোববার জামিন প্রদান করে। তার জামিন পাবার বিষয়টি গনমাধ্যমে প্রকাশের পর থেকেই নড়েপড়ে বসেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।