নারায়ণগঞ্জের দুইটি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন। মোহাম্মদ আলী ও শাহ আলম জমা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের মনোনয়নপত্র। মনোনয়নপত্র জমা দেননি আলোচিত শিল্পপতি মাসুদুজ্জামান ও জেলা বিএনপি’র সভাপতি অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। এনসিপি মনোনীত প্রার্থী আল আমিন ও ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী ইসমাইল সিরাজী নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের জন্য জমা দিয়েছেন মনোনায়নপত্র।
নারায়ণগঞ্জে মোট ৯১টি মনোনয়নপত্র উত্তোলন করা হলেও ৫৭ টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) ও নারায়ণগঞ্জ-৩ (সিদ্ধিরগঞ্জ-সোনারগাঁ) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন। সোমবার বিকেল তিনটায় তার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন ফতুল্লা থানা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম, ফতুল্লা থানা বিএনপি’র সহ-সভাপতি সুলতান মাহমুদ মোল্লা, সহ-সভাপতি লোকমান হোসেন, কুতুবপুর ইউনিয়নের সভাপতি বিল্লাল হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের ফতুল্লা থানার সদস্য সচিব রাসেল মাহমুদ, যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান মাসুদ।
কোন আসনে নির্বাচন করবেন এমন প্রশ্নের উত্তরে টেলিফোনে গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘নেতা-কর্মীরাই আমার মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিয়েছে। তারা যেখানে চাইবে সেখানেই নির্বাচন করবো। তারা যদি মনে করে দুইটাতে নির্বাচন করা উচিৎ তাহলে দুইটাতেই করবো।’
গিয়াস উদ্দিন এর মধ্যে দুই আসনেই ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছেন।
এদিকে গতকাল মনোনয়নপত্র জমা দেননি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী মাসুদুজ্জামান। শুরুতে মাসুুদুজ্জামান এ আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন পেয়েছিলেন। ১৬ ডিসেম্বর তিনি নিরাপত্তাজনিত ও পারিবারিক কারন দেখিয়ে এ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। ১৮ ডিসেম্বর নেতা-কর্মীদের চাপে তিনি আবার নির্বাচন করার ঘোষণা দেন। তবে ২০ ডিসেম্বর এ আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন পেয়েছেন বলে দাবী করেন মহানগর বিএনপি’র আহ্বায়ক এডভোকেট শাখাওয়াৎ হোসেন। এর চার দিনের মাথায় ২৪ ডিসেম্বর এ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন বলে জানান নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট আবুল কালাম। যদিও এখনো অফিসিয়াল বিবৃতিতে বিষয়টি পরিস্কার করেনি কেন্দ্রীয় বিএনপি। তবে মাসুদুজ্জামান মনোনয়নপত্র জমা না দেয়ায় ধরে নেয়া যায় কেন্দ্রীয় বিএনপি তাকে গ্রীন সিগন্যাল দেয়নি। এবং আবুল কালামের দাবীটি-ই সঠিক।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) কে বিএনপি তাদের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম এর প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাশেমীকে ছেড়ে দিয়েছিলো। কিন্তু এ আসনে স্বতন্ত্র নির্বাচন করতে কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা শাহ আলম ও ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রোয়ারীর নির্বাচন বিএনপি থেকে নির্বাচিত এম পি মোহাম্মদ আলী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।