ফতুল্লার এনায়েতনগরে ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত দুইজন আহত হওয়ার পাশাপাশি মাদ্রাসা থেকে ফেরার পথে ১০ বছর বয়সী এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়েছে। গুলিবিদ্ধ শিশুটি বর্তমানে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফতুল্লা মডেল থানাধীন এনায়েতনগরের শাসনগাঁও চাঁদনী হাউজিং এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- এনায়েতনগর বিএনপি নেতা মো. হোসেন খোকার ছেলে রাকিব (২৩), স্থানীয় বিএনপি নেতা রফিক (৪০) এবং পথচারী শিশু ইমরান (১০)। ইমরান একটি মাদ্রাসার ছাত্র বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, চাঁদনী হাউজিং এলাকায় অবস্থিত ডয়েজল্যান্ড নামের একটি পোশাক কারখানার ঝুট বা ওয়েস্টেজ মালামাল নামানো ও নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় দুটি প্রভাবশালী গ্রুপের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল। ঐ বিরোধকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ককটেল বিস্ফোরণ, ফাঁকা গুলিবর্ষণ এবং ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে রাকিব গুলিবিদ্ধ হন, রফিক ককটেলের আঘাতে আহত হন এবং মাদ্রাসা থেকে ফেরার পথে শিশু ইমরানের পেটে গুলি লাগে।
স্থানীয়রা জানান, গুলিবিদ্ধ শিশু ইমরান ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফিরছিল। এ সময় হঠাৎ শুরু হওয়া গুলিবর্ষণের মধ্যে পড়ে সে গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে সে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।
অন্যদিকে, গুলিবিদ্ধ রাকিবকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে স্থানীয়রা নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময় এলাকায় থাকা সশস্ত্র লোকজন একের পর এক গুলির শব্দ ও বিস্ফোরণ ঘটালে পুরো এলাকা মুহূর্তেই ভীতিকর হয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষ এসময় প্রাণভয়ে দৌড়াদৌড়ি শুরু করেন। আশপাশের দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দ্রুত বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সকালের দিকে হঠাৎ করেই উত্তেজনা শুরু হয়। পরে কয়েক দফা বিস্ফোরণ আর গুলির শব্দ শোনা যায়। পুরো এলাকা তখন রণক্ষেত্রের মতো হয়ে যায়। এ সময় পথচারী ও সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে পড়েন।
এ ঘটনায় এনায়েতনগর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হোসেন খোকা অভিযোগ করে বলেন, ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক হাজী মাসুদুর রহমান মাসুদের নেতৃত্বে তাদের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে আগে থেকেই ওঁত পেতে থাকা অভি, মনির, সুমন, জসিমসহ ২০ থেকে ৩০ জন সশস্ত্র লোক অতর্কিত হামলা চালায়। তারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়, কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। তাদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্রও ছিল বলে তিনি দাবি করেন।
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) হাসিনুজ্জামান বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ঝুট ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জের ধরেই এই সংঘর্ষ হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে।