রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৫ অপরাহ্ন

ফতুল্লায় ইটভাটার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সং.ঘ.র্ষ : গু.লি.বি.দ্ধসহ আহত ১০

ফতুল্লা প্রতিনিধি
  • Update Time : শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৮ Time View

ফতুল্লায় ইটভাটার ব্যবসা ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর একটি পক্ষের বাড়িঘরে ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে ফতুল্লার বক্তাবলী ইউনিয়নের আকবরনগর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যা ৬টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কর্মী ছামেদ আলী এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদের অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ধলেশ্বরী নদীর তীরবর্তী ইটভাটায় শ্রমিক সরবরাহ, মাটি সরবরাহের ব্যবসা এবং এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছিল। এরই জেরে শনিবারের সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সকালে পাশের চরবক্তাবলী এলাকায় ইউনিয়ন কৃষক দলের উদ্যোগে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিবিরোধী একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় হালিম আজাদসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে দুপুরে হালিম আজাদের অনুসারীরা আকবরনগরে গেলে ছামেদ আলীর অনুসারীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে গোলাগুলি ও টেঁটাবিদ্ধের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংঘর্ষে ছামেদ আলীর ছোট ছেলে মো. হৃদয় (২৬) গুলিবিদ্ধ হন। তাকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়। একই ঘটনায় বক্তাবলীর আলাউদ্দিন শেখের ছেলে রাজু শেখ (৩০) পায়ে দুটি টেঁটাবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আসেন। তাকেও ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া আকবরনগরের শামসুল (৩২) ও মধ্যনগরের সৌরভ (২৮)সহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। তাদের কয়েকজন স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রাজু শেখ অভিযোগ করেন, এলাকায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা প্রভাব বিস্তার করছেন এবং ইটভাটাগুলো নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। এসবের প্রতিবাদ করায় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, হৃদয় দাবি করেন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পথে হালিম আজাদের অনুসারীরা তার ওপর হামলা চালান। পূর্বশত্রুতার জের ধরে এ হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে হালিম আজাদ বলেন, কৃষক দলের কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে ছামেদ আলীর লোকজন তাদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালান। ইটভাটায় চাঁদাবাজি বন্ধের পক্ষে তারা অবস্থান নিয়েছেন দাবি করে তিনি বলেন, তারা কোনো ধরনের হামলা সমর্থন করেন না।

সংঘর্ষের পর শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে ছামেদ আলীর বাড়িঘরে বিএনপির নেতা-কর্মীরা ভাঙচুর চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। ছামেদ আলী বলেন, আগস্টের পর থেকে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও সম্পত্তি বিএনপির লোকজন দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাকে ও তারা পরিবারের সদস্যদের এলাকা থেকে সরিয়ে দিয়ে সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ছামেদ আলী আরও দাবি করেন, অতীতে তিনি আওয়ামী লীগের এক চেয়ারম্যানের সঙ্গে ছিলেন, তবে তারা কোনো সাংগঠনিক পদ ছিল না। অন্যদিকে, স্থানীয়দের ভাষ্য, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে অতীতেও ছামেদ আলী ও তার অনুসারীদের সঙ্গে বিভিন্ন পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে, হালিম আজাদের বিরুদ্ধে গত ২৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগও রয়েছে। এ ঘটনায় পরদিন ফতুল্লা মডেল থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করা হয়।

ফতুল্লা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানান, সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও এসআরবি সদস্য মোতায়েন করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) শামীম হোসাইন বলেন, সন্ধ্যা ৬টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং কয়েকটি টেঁটা জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
Translate »