বন্দর উপজেলার তিনগাঁও এলাকায় লোকালয়ে একটি কুমিরের দেখা পাওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বাড়ির আঙিনা ও পুকুরে কুমিরটির দেখা মেলার পর এর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা জানায়, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রথম কুমিরটিকে দেখা যায়। পরে সেটি একটি পুকুরে অবস্থান নেয়। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বন বিভাগ, প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কুমিরের উপস্থিতি নিশ্চিত করেন।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দিনভর ঢাকার বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দল পুকুরে জাল ফেলে কুমিরটি উদ্ধারের চেষ্টা চালালেও সফল হয়নি। রাতে কুমিরটি আগের অবস্থান থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে অন্য একটি পুকুরে চলে গেছে বলে খবর পাওয়া যায়। আজ সোমবারও (২১ সেপ্টেম্বর) কুমিরটি উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়। তবে বিকেল পর্যন্ত সেটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
বন বিভাগের বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দলের সদস্য ও বন্যপ্রাণী পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আস সাদিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুমিরটিকে মহাবিপন্ন মিঠাপানির কুমির হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি কুমিরটিকে হত্যা বা আঘাত না করে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বন্দর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আল মাহমুদ হাসান বলেন, কুমিরটি মিঠাপানির কুমির বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ধরনের কুমির সাধারণত শান্ত প্রকৃতির হলেও বন্য প্রাণীর আচরণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় না। তাই কুমিরটির কাছাকাছি না যাওয়াই নিরাপদ। কুমিরটি যে পুকুরে অবস্থান করছে, সেটি কচুরিপানায় পরিপূর্ণ হওয়ায় এর অবস্থান শনাক্ত করতেও সমস্যা হচ্ছে।
তিনগাঁওয়ের আশপাশে কোনো নদী নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা। ফলে কুমিরটি কীভাবে ওই এলাকায় এসেছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিবানী সরকার বলেন, কুমিরের উপস্থিতির খবর পাওয়ার পর স্থানীয়দের সতর্ক করতে এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। প্রশাসন, পুলিশ, প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের পুকুরে না নামতে এবং পুকুরের পাড়ে না যেতে বলা হয়েছে। কুমির দেখতে পেলে কাছে গিয়ে ছবি বা ভিডিও করা, নিজে ধরার বা তাড়ানোর চেষ্টা এবং কুমিরটিকে আঘাত না করার জন্যও সতর্ক করা হয়েছে।
একই সঙ্গে শিশু ও গবাদিপশুকে পুকুরের আশপাশ থেকে দূরে রাখার পাশাপাশি কুমির দেখতে উৎসুক জনতার ভিড় না করার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন। কুমিরটির অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা দ্রুত বন্দর উপজেলা বন কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।