রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সোনারগাঁওয়ে আসামি ধরতে গিয়ে ৩ পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে জখম নারায়ণগঞ্জে হোসিয়ারি শ্রমিক আলমগীর হ.ত্যা: প্রধান আসামিসহ ২ জন গ্রেপ্তার নি.খোঁ.জের ৬ দিন পর ডোবা থেকে অটোরিকশা চালকের লা.শ উদ্ধার জাতীয় পতাকায় কালেমা যুক্ত করে বিক্রি: গ্রেপ্তার ২ হাসিমুখে বাসায় ডেকে হ.ত্যা: ধরা পড়ল মূল অভিযুক্ত পদ্মা রেল সেতুর মাটি কাটার কাজ প্রকল্পের নকশা ও চুক্তিরই অংশ: রেলমন্ত্রী অপ.হর.ণের পর ব্যবসায়ীকে হ.ত্যা: তোশকে মোড়ানো লা.শ উদ্ধার জুলাই বিপ্লবের বার্ষিকী উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে জামায়াতের মাসব্যাপী কর্মসূচি হীরাঝিলে বৈদ্যুতিক তারে আতঙ্ক, ঝুঁকিতে শতাধিক পরিবার নাসিকের কর মেলায় ৭ কোটি টাকা বকেয়া আদায়

পরকীয়ার জেরে খু-ন: মস্তক-বিহীন যুবকের লা-শ উদ্ধার ঘটনায় পরিকল্পনাকারী গ্রেপ্তার

আড়াইহাজার প্রতিনিধি
  • Update Time : শনিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ২৪৮ Time View

আড়াইহাজারে বালুর মাঠের পাশে পড়ে থাকা মস্তকবিহীন আবরাহাম খান ওরফে আলিম খান (২৭) নামে যুবকের লাশ উদ্ধারের চারদিনের মধ্যেই চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত মো. রুহুল আমিন ওরফে রাব্বিকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরকীয়ার জেরেই এ হত্যাকান্ডটি ঘটেছে।

শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকার পিবিআই কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

এর আগে শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) রাতে দিকে ঢাকার মধ্য বাড্ডা এলাকা থেকে হত্যাকান্ডে সরাসরি জড়িত মো. রুহুল আমিন ওরফে রাব্বিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আসামী রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার বাসিন্দা। আর নিহত ওই রংমিস্ত্রী আবরাহাম খান ওরফে আলিম খানের গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায়।

সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই জানায়, গত ১৬ ডিসেম্বর সকালে আড়াইহাজারের শ্রীনিবাসদী এলাকায় বালুর মাঠ সংলগ্ন রাস্তার পাশ থেকে রংমিস্ত্রীর মস্তকবিহীন মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে পিবিআইয়ের ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করে।

তদন্তে জানা যায়, নিহত আবরাহাম খান ১৫ ডিসেম্বর সকালে ঢাকার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। একই দিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বোনের সঙ্গে শেষবার ফোনে কথা হয় তার। এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা ওয়াজেদ আলী খান বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করলে মামলাটি পিবিআই তদন্তের দায়িত্ব নেয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার রুহুল আমিন হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে আসে, নিহতের সঙ্গে গ্রেপ্তারকৃত আসামির খালার পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি পারিবারিকভাবে জানাজানি হলে নিহত ওই নারীকে ব্ল্যাকমেইল করতে শুরু করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রুহুল আমিন ও তার খালা পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৫ ডিসেম্বর নিহতকে রাজবাড়ী থেকে আড়াইহাজারে ডেকে এনে দা দিয়ে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। পরে পরিচয় গোপন করতে তার মাথা বিচ্ছিন্ন করে দা ও মস্তক একটি ব্যাগে ভরে পার্শ্ববর্তী খালে ফেলে দেওয়া হয়। নিহতের পরিহিত জামাকাপড়ও খুলে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৮ ডিসেম্বর স্থানীয়দের দেখানো মতে খাল থেকে নিহতের খন্ডিত মস্তক, হত্যায় ব্যবহৃত দা ও জ্যাকেটের অংশবিশেষ উদ্ধার করে পুলিশ।

পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামির খালা ও অন্যান্য জড়িত অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে শনিবারই আদালতে পাঠানো হচ্ছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
Translate »