বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মা.দ.কের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে খু.ন: বিচারের দাবিতে সড়ক অব.রোধ নারায়ণগঞ্জবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিএনপি নেতাকর্মীরা রাজপথে: রাজীব সিদ্ধিরগঞ্জে থানায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ১৯২ জনের বিরুদ্ধে মামলা সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আ’লীগ সভাপতি মজিবুরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মজু আটক সনদ অর্জনই শিক্ষার একমাত্র উদ্দেশ্য নয়: ডিসি রায়হান কবির সিদ্ধিরগঞ্জে ডোবা থেকে বৃদ্ধের অর্ধ.গলি.ত মর.দেহ উদ্ধার চাঁ.দা.বা.জির অভিযোগে এমপি মান্নানের ছেলে সজিব আটক : দল থেকে বহি.ষ্কার ২০০ বছরের পুরাতন শ্মশানের উন্নয়ন কাজে আর বাধা নেই: নাসিক প্রশাসক আড়াইহাজারে ডাকা.তের হাম.লায় এসিল্যান্ডসহ আ.হ.ত ৬: বাড়িতে লুটপাট শীতলক্ষ্যায় গোসল করতে নেমে প্রাণ গেল মাদরাসাছাত্রের

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ভয়াবহ যানজট: রাতভর দুর্ভোগ

সোনারগাঁও প্রতিনিধি
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৫
  • ৩০১ Time View

দেশের অন্যতম ব্যস্ততম সড়ক ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সোমবার (২৫ আগস্ট) রাত থেকে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়ছে। রাতভর আটকে ছিল শত শত যানবাহন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও চালকেরা। দীর্ঘ যানজটে শুধু যাত্রী নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ব্যবসায়ীরাও। সময়মতো পণ্য পৌঁছাতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সকাল নাগাদ পরিস্থিতি আরও তীব্র হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে যান চলাচল।

মহাসড়ক পুলিশ জানায়, সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। দুর্ঘটনার পরপরই ওই ট্রাক রাস্তার মাঝে আটকে থাকায় মহাসড়কে গাড়ির সারি দীর্ঘ হতে থাকে। এর কিছুক্ষণ পর মেঘনা সেতুর কাছাকাছি আরেকটি ট্রাক দুর্ঘটনায় পড়লে যানজট আরও তীব্র আকার ধারণ করে। তাছাড়া এ মহাসড়কের অনেক স্থানে রয়েছে খানাখন্দ। এতে যানবাহনগুলোতে চলতে হিমশিম খেতে হয়।

একই রাতে দুই দুর্ঘটনার কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড থেকে শুরু করে দাউদকান্দি পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকায় যানবাহন চলাচল একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। এতে রাতভর শত শত ট্রাক, বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি আটকে থাকে।

শিমরাইল হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জুলহাস উদ্দিন বলেন, “দাউদকান্দিতে ট্রাক দুর্ঘটনার পরপরই মেঘনায় আরেকটি দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ধীরে ধীরে পুরো মহাসড়কে যানজট তীব্র হয়ে ওঠে। ট্রাকচালকেরা অনেকেই গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাতেই গাড়ির ভেতর ঘুমিয়ে পড়েন। বর্তমানে আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে। দুর্ঘটনাগ্রস্ত যানবাহন সরানো হয়েছে। যান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে।”

মঙ্গলবার (২৬ আগষ্ট) সকালে যাত্রীদের ভোগান্তি ছিল চরম। ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক জায়গায় আটকে থেকে শিশু, নারী ও বৃদ্ধরা নাজুক পরিস্থিতিতে পড়েন। খাবার ও পানির সংকট দেখা দেয়।

ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী যাত্রী সেলিম মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সকাল ৬টার দিকে বাসে উঠেছি। ৯টা পর্যন্ত বাস মাত্র কয়েক কিলোমিটার এগিয়েছে। পরে নেমে হেঁটে এগোতে হয়েছে। খাবারও কিনতে পারিনি, পানি পাওয়া ছিল কঠিন।”

আরেক যাত্রী নাসরিন আক্তার বলেন, “গরমে ছোট বাচ্চাকে নিয়ে ভীষণ কষ্ট হয়েছে। সারা রাত গাড়ির ভেতর বসে থাকতে হয়েছে। শিশুটি কান্নাকাটি করেছে।”

সোনারগাঁওয়ের ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, “যখনই মহাসড়কে এ ধরনের দীর্ঘ যানজট হয়, তখন আমাদের ব্যবসায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়। কাস্টমাররা আসে না, আবার আমাদের পণ্য সময়মতো বাজারে পৌঁছায় না। এভাবে প্রায়ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।”

পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে প্রচুর গাড়ি জমে থাকায় পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে দুপুর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

মহাসড়ক পুলিশের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এমন পরিস্থিতি নতুন নয়। যেখানে সামান্য দুর্ঘটনাই ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্থবিরতা তৈরি করে। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই। আবার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে উন্নয়ন কাজ চলমান থাকায় সেখানেও প্রতিদিন যানজট তৈরি হচ্ছে। ফলে একটি সড়কে দুর্ঘটনা ঘটলেই চাপ অন্য সড়কেও বেড়ে যায়, এতে যাত্রীদের ভোগান্তি বহুগুণে বাড়ছে।”

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
Translate »