ফতুল্লার এসরোটেক্স গ্রুপের গার্মেন্টস কারখানার ছাঁটাইকৃত ২২০ জন শ্রমিককে চাকরিতে পূনর্বহাল, শ্র্র্র্র্র্র্র্র্রমিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও শ্রমিকদের দুই মাস ১২ দিনের সার্ভিস মজুরিসহ সকল পাওনা পরিশোধের দাবিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে শ্রমিকরা।
রোববার (১২ অক্টোবর) বেলা এরগারোটা থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের কার্যালয়েরে প্রধান ফটক ঘেরাও করে শ্রমিকরা এই বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এসময় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ পথ বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় দুই ঘন্টা ধরে জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করায় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসে তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে দুপুর একটার দিকে শ্রমিকদের মধ্য থেকে ১৫ সদস্যের একটি দল জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে যায় কথা বলার জন্য।
শ্রমিকদের অভিযোগ, গত ২ আগষ্ট ঐ গার্মেন্টসে তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার জের ধরে মালিকপক্ষ ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৫০-৬০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করে। পরে মালিকপক্ষ ২২০ শ্রমিককে কোন প্রকার পাওনা পরিশোধ না করে ছাটাই করে দেয়। শ্রমিকদের দাবি শ্রম আইন অনুযায়ী কোন শ্রমিককে ছাটাই করতে হলে তার তিন মাসের বেতনসহ যাবতীয় পাওনাদি পরিষদের নিয়ম থাকলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ তা মনেনি। চাকুরি না থাকায় গত দুই মাস ধরে শ্রমিকরা মানবতার জীবনযাপন করছেন বলে অভিযোগ করেন।
এ ব্যাপারে এসরোটেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসাদুজ্জামান মনির সাংবাদিকদের জানান, শ্রমিকরা কারখানার ম্যানেজার, জিএমকে মারধর করে এবং কারখানার এমডির অফিসসহ চেয়ার-টেবিলে ভাংচুর করে।
তিনি বলেন, গত চার-পাঁচ বছর ধরে আমি কারখানাটি শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি মাথায় রেখে লস দিয়ে চালিয়ে আসছি। কিন্তু শ্রমিকরা তুচ্ছ ঘটনায় নিজ প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর করে এবং কর্মকর্তাদের মারধর ও ক্ষতি করেছে। এই সহিংসতার সাথে জড়িতদের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের স্বাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিত্বে ২২০ জনকে চিহ্নিত করে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় ফতুল্লা থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। তিনি বলেন, শ্রম আইন মেনেই সব করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোনাব্বের হোসেন জানান, ঐ গার্মেন্টসের শ্রমিক প্রতিনিধি, গার্মেন্টস শ্রমিক সংগঠনের নেতা, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ, কলকারখানা পরিদর্শন কর্মকর্তাসহ জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটে নীলুফার ইয়াছমিনের নেতৃত্বে মালিক পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসেছে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নীলুফার ইয়াছমিন জানান, শ্রমিকসহ স্টেক হোল্ডারদের সাথে বসে উভয় পক্ষের কথা শুনেছি। শ্রমিকদের কোন আইনে টার্মিনেট করা হয়েছে, শ্রমিকরা কোন বেনিফিট মালিক পক্ষের কাছে পবে-কিনা এসব কাগজপত্র খতিয়ে দেখতে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান।