হাতঘড়ির ব্যবসার প্রলোভন দেখিয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৫১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতারিত ব্যবসায়ী মো. জহির যাত্রাবাড়ী থানায় তিনজনের বিরুদ্ধে লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
এ ঘটনায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ অভিযান চালিয়ে চক্রের মূল হোতা জাহাঙ্গীর ওরফে মো: খোকন শেখ শহিদুল (৫৫), শরীফ মামুন খন্দকার (৫২) ও আজিম ওরফে হারুন অর রশিদ (৫৮) তাদের সহযোগী গ্রেপ্তার করেছে।
ডিবি পুলিশ জানায়, এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে ‘বিদেশি ঘড়ির ব্যবসা’ বা ‘ইমপোর্ট প্রজেক্টে অংশীদার’ করার প্রলোভন দেখিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষকে ফাঁদে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল।
জহির জানান, আসামিরা মাছ ব্যবসার পাশাপাশি হাতঘড়ির আমদানি-রপ্তানির ব্যবসা করেন বলে পরিচয় দেন। তারা দাবি করেন, ঘড়ির ব্যবসায় তিনজন পার্টনার আছেন, আরও একজন পার্টনার লাগবে এবং লাভের অংশ ২০ শতাংশ দেওয়া হবে।
এরপর ২০২৫ সালের ১০ আগস্ট সকাল ১১টার দিকে শনির আখড়া বধুয়া কমিউনিটি সেন্টারের সামনে নগদ ৪০ লাখ টাকা এবং ২৪ আগস্ট এসএ পরিবহনের মাধ্যমে আরও ৯ লাখ ৭ হাজার ২৫০ টাকা দেন জহির। এছাড়া নিজের বিকাশ নম্বর (০১৯৫৩৯৯৪৬৯৮) থেকে আসামীদের বিকাশ নম্বর ০১৪০০১৩৩৮৯৮, ০১৬৩৭০০১৯০৫ ও অন্যান্য নম্বরে আরও ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাঠান।
সব মিলিয়ে মোট ৫১ লাখ ৫৭ হাজার ২৫০ টাকা প্রদান করেন তিনি। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর আসামিরা তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পেয়ে যোগাযোগ ব্যর্থ হয়।
প্রতারিত জহির বলেন, “আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে তারা পরিকল্পিতভাবে প্রতারণা করেছে। বহু চেষ্টা করেও যোগাযোগ না পেয়ে শেষ পর্যন্ত থানায় এসে মামলা করতে বাধ্য হয়েছি।”
এ বিষয়ে যাত্রাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, “এ ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত চলছে।”