বন্দরে ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা বুলবুল আহমেদ হত্যার ঘটনায় কিশোর অপরাধী দলের কথিত প্রধান শেখ সিফাতসহ নয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সিফাতের সহযোগী হিসেবে পরিচিত হোয়াইট জুম্মন এবং তিন নারীও রয়েছেন।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে আটক অন্যদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানায়নি পুলিশ।
এদিকে বুলবুল হত্যার প্রতিবাদে শুক্রবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা। সকাল ৯টার দিকে বন্দরের মদনপুর এলাকায় সড়কে অবস্থান নিয়ে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি শামীম শেখ জানান, প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরোধের পর সাড়ে ১১টার দিকে বিক্ষোভকারীরা মহাসড়ক থেকে সরে যান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে বন্দরের সালেহনগর এলাকায় হামলার শিকার হন বুলবুল আহমেদ। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলেও পরে তিনি মারা যান।
নিহত বুলবুলের বয়স ৩৫ বছর। তিনি সালেহনগরের পাশের শাহী মসজিদ এলাকার রাজা মাস্টারের ছেলে। এলাকাটি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি মুফতি মাছুম বিল্লাহ জানান, বুলবুল ইসলামী যুব আন্দোলনের বন্দর থানা (পশ্চিম) শাখার যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন।
মুফতি মাছুম বিল্লাহর দাবি, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বুলবুলের গ্যারেজে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনায় তিনি মামলা করেন। ওই মামলায় স্থানীয় কিশোর অপরাধী দলের কথিত নেতা শেখ সিফাতসহ তার সহযোগীদের আসামি করা হয়।
তার ভাষ্য, ওই মামলার জের ধরেই বুলবুলের সঙ্গে সিফাত ও তার সহযোগীদের বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতে সালেহনগর এলাকায় বুলবুলের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।