চাষাড়ায় শুভ চন্দ্র দাস (৩০) নামের এক যুবককে ডেকে এনে গুলি ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশের ভাষ্য, পূর্বপরিকল্পিতভাবে শুভকে ঘটনাস্থলে ডেকে এনে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল তার ওপর হামলা চালায়। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আমলাপাড়া মাদ্রাসাপাড়া এলাকার সুমন ওরফে মাইগ্যা সুমন (৪৫), একই এলাকার কেবি সাহা বাইলেনের সিয়াম আহমেদ সিজান (২১) এবং মো. সোহান (২৪)।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল ও তিনটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র এখনো উদ্ধার করা যায়নি।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার হকার্স মার্কেটের পেছনে দুর্গামলের সামনে সড়ক থেকে শুভ চন্দ্র দাসের গুলিবিদ্ধ ও ছুরিকাহত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শুভ নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার গলাচিপা এলাকার হরি চন্দ্র দাসের ছেলে।
পুলিশের তথ্যানুযায়ী, শুভকে হত্যার পরিকল্পনা করেন অনিক ও সুমন। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শুভ’র সহযোগী সোহানকে ব্যবহার করা হয়। তাকে ১০টি ইয়াবা দেওয়ার বিনিময়ে শুভকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনা হয়। এরপর অনিক ও অহিদের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল সেখানে জড়ো হয়।
ডিবি’র দাবি, ঘটনাস্থলে আসার পর শুভকে গুলি করেন অনিক ও অহিদ। পরে দলের অন্য সদস্যরা তাকে ছুরিকাঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই শুভর মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শুভ’র বাবা বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা করেছে। গত ৫ সেপ্টেম্বর দায়ের করা ওই মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত চালানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে ডিবি।
পুলিশের ভাষ্য, হত্যাকাণ্ডে আরও কয়েকজন জড়িত। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র এবং অন্যান্য আলামত উদ্ধারে অভিযান চলছে।