নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেপ্তারের সময় পুলিশের সরকারি কাজে বাধা প্রদান, পুলিশের উপর চড়াও হওয়া এবং মেয়র আইভীর বাড়িতে সাড়ে ছয়ঘণ্টা পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সদর থানা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রবিবার (১১ মে) রাতে সদর থানার এসআই রিপন মৃধা বাদি হয়ে ৫০ থেকে ৫২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো দেড়শ’ থেকে ২শ’ জনকে আসামী করে এ মামলা দায়ের করেন। সোমবার (১২ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সাংবাদিকদের মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন আহমেদ।
তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জের পোষাক শ্রমিক মিনারুল ইসলাম হত্যাসহ সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় চারটি ও ফতুল্লা থানায় একটি হত্যা মামলা রয়েছে। হত্যামামলার আসামী ধরতে গত বৃহস্পতিবার (৮ মে) রাত দশটার দিকে জেলা পুলিশের একটি টিম দেওভোগের চুনকা কুটিরে যায়। এ সময় আওয়ামীলীগ নেত্রী ডাক্তার আইভীর অনুগত দলীয় লোকজন বিভিন্ন মসজিদের মাইক থেকে মাইকিং করে শত শত মানুষকে বাড়ির সামনে জড়ো করে। আইভীর বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সব কয়টি সড়কের মুখে কিছু উশৃংখল কর্মী সমর্থক সিমেন্টের খুটি, বালি, ইটের টুকরা, ঝুটের বস্তা, কাঠ, বাশ দিয়ে ব্যারিকেট সৃষ্টি করে যানচলাচল ও পুলিশের যাতায়তে বাঁধা সৃষ্টি করে।
পুলিশ জানায়, আইভীর বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল ) হাসিনুজ্জামান ও নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ওসি নাছির উদ্দিন আহমেদ, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি শাহিনুর আলমসহ পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্যকে রাত দশটা থেকে ভোর ছয়টা পর্যন্ত অবরুদ্ধ করে রাখে। এসময় আইভীর অনুগত আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা পুলিশের বিরুদ্ধে উস্কানিমুলক নানা স্লোগান দেয়। পুলিশের উপর চাড়াও হয়। রাতভর উত্তেজনকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে রাখে।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার সাংবাদিকদের জানান, দীর্ঘ সময় পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখলেও জেলা পুলিশের সদস্যরা অত্যন্ত ধৈর্য্য সহকারে পরিস্থিতি মোকাবেলা করে। পুলিশ কোন প্রকার বল প্রয়োগ না করে মেয়র আইভীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় এবং হেফাজতে নিয়ে আসে।
পুলিশ সুপার আরো বলেন, পুলিশ আসামীর অবস্থান নিশ্চিত হয়ে আসামীকে গ্রেপ্তার করতে যায়। কিন্তু আওয়ামীলীগের একদল উশৃংখল কর্মী পুলিশের সরকারি কাজে বাধা প্রদান করে পুলিশের উপর চাড়াও হয় এবং সরকারি কাজে বাধা প্রদান করে। পুলিশ রাষ্ট্রের হয়ে কাজ করে। রাষ্টীয় কাজে বাধা প্রদানকারিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে আইনশৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। সে কারণেই মামলা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ওই দিনের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেট্রনিক্স মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযাগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও সংগ্রহ করে পুলিশের কাজে বাধা প্রদানকারি ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, ঐদিন সাবেক মেয়র আইভীকে গ্রেপ্তার করার খবর পেয়ে অনেক সাধারণ মানুষও বাড়ির সামনে জড়ো হয়েছিলো। তাই পুলিশ এ বিষয়টি খুব সর্তকতার সহিত তদন্ত করছে। যাতে কোন নিরিহ মানুষ হয়রানির শিকার না হয়।