আওমীলীগ ঘোষিত ১৩ নভেম্বর লকডাউনকে কেন্দ্র করে সিদ্ধিরগঞ্জে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগসহ আওয়ামীগের সন্ত্রাসীরা। সিদ্ধিরগঞ্জকে অশান্ত করতে ব্যপক প্রস্তুতি নিয়েছে আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মী ও সন্ত্রাসীরা। বিশেষ করে সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল ৮নং ওয়ার্ডে নাশকতা চালিয়ে বিভিন্ন সেক্টর ও ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসী জানায়, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনের ঘটনায় মামলার এজাহারভুক্ত আসামী আওয়ামীলীগের ক্যাডাররা আওয়ামী সরকার পতনের পর আবারও এলাকায় ফিরে এসে নাশকতার পরিকল্পনা করছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্রের মহড়া দিচ্ছে এবং ঝটিকা মিছিল বের করছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৮নং ওয়ার্ড গোদনাইল এলাকাটি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এবং নারায়ণগঞ্জ ৩ আসনের অন্তর্ভূক্ত। আর এই গোদনাইল এলাকার মধ্যে ধনকুন্ডা, ২নং ঢাকেশ্বরী, শান্তি নগর, তাঁতখানা, সৈয়দপাড়া, ভূঁইয়াপাড়া, এনায়েত নগর, আইলপাড়া, পাঠানটুলী এলাকায় বিগত সময়ে যেভাবে ত্রাসের রাজ্য চালিয়ে ছিল, ঠিক অনুরূপভাবে তারচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগের অঙ্গসংগঠনের পলাতক নেতাকর্মী এবং অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তার মধ্যে বেশ কয়েকজন দলীয় ক্যাডার বিদেশে থেকে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।
এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সিটি কর্পোরেশনের ৮নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর রুহুল আমীন মোল্লা। বিদেশে থেকেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নাশকতার জন্য কর্মীদের উষ্কে দিচ্ছেন তিনি। পলাতক থেকে আওয়ামীলীগ নেতা এবং শামীম ওসমান এর আস্থাভাজন সন্ত্রাসী মহাসীন ভূইয়া, শাহ নিজামের অনুসারী যুবলীগ নেতা শাজাহান সরকার, শহিদুল্লাহ, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন, থানা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি শাহ আলম, ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি এমদাদ হোসেন, অয়ন ওসমানের ক্যাডার ছাত্রলীগের যমজ দুই সহোদর রাজীব-সজীব, আজমীর ওসমানের হুন্ডা বাহিনীর গুন্ডা দেলোয়ার হোসেন দেলু, মুরাদ হোসেন বারিশ, সানমুন, শাহজাহান মোল্লা, মহানগর স্বেচ্ছা সেবক লীগের নেতা মুরাদ হোসেন মুক্তার, আমির হোসেন, যুবলীগের সাইদুল, মোকলেছ, ৮নং ওয়ার্ড সভাপতি গোদইল উত্তর আক্তার হোসেন, আওয়ামী দলীয় সন্ত্রাসী মমিনুল হক কুষন, সেন্টু, মোস্তফা হাওয়াদার, খায়রুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা অহিদুল হক, আওয়ামীলীগ নেতা মাহাবুব, নুর হোসেন, যুব লীগের হিমেল, বাবুল, শাহ নিজামের বন্ধু পরিচয়দানকারী ড্রেজার মনির, ইসমাইল মাদবরসহ আরো অনেক সন্ত্রাসীরা নাশকতার পরিকল্পনায় এগিয়ে যাচ্ছে।
বিগত সময়ে উল্লেখিত নামধারী সন্ত্রাসীরা গোদনাইল ৮নং ওয়ার্ডে অরাজকতা সৃষ্টিসহ মানুষকে জিম্মি করে চাঁদাবাজী, ভূমিদস্যুতা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড চালিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কেউ কোন ধরনের প্রতিবাদ মূলক কথা বলতে পারেনি, বর্তমানে গা ঢাকা দিয়ে থাকলেও আবারো লকডাউনকে কেন্দ্র করে নাশকতার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় বিএনপি নাশকতা প্রতিরোধে বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহন করলেও বিএনপির একটি গ্রুপ তাদেরকে আশ্রয়, প্রশ্রয় দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সকল সন্ত্রাসীদেরকে গেফতারে ও লকডাউন নামে নাশকতা প্রতিরোধে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসন ভুমিকা রাখবে বলে এলাকাবাসী আশাবাদী।