সিদ্ধিরগঞ্জে ডিজিটাল ভূমি জরিপে নামে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগে দুই কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল স্থানীয় ছাত্র-জনতা। অবরুদ্ধরা হলেন- নারায়ণগঞ্জ সদর সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার মো. মহসিন আলী সরদার ও সার্ভেয়ার নজরুল ইসলাম।
বুধবার (২৩ জুলাই) দুপুর থেকে নাসিক ১নং ওয়ার্ডের হীরাঝিলে অবস্থিত গিয়াসউদ্দিন ইসলামিক মডেল স্কুল এন্ড কলেজ ক্যাম্পাসে অস্থায়ী কার্যালয়ে তাদের অবরুদ্ধ করে ছাত্র-জনতা। পরে পুলিশ গিয়ে বিকালে তাদের উদ্ধার করে।
প্রায় এক মাস যাবত সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ডিজিটাল ভূমি জরিপের কাজ শুরু করা হয়েছে। জরিপে জমি ও বাড়িঘর সঠিকভাবে রেকর্ড করে নিতে মালিকপক্ষ সার্ভেয়ারের দারস্থ হোন। তাদের দারস্থ হওয়া সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ বাণিজ্য ও হয়রানি করে আসছিল অবরুদ্ধ কর্মকর্তারাসহ তাদের বেশ কয়েকজন সহকর্মী। একপর্যায়ে তাদের এমন কৃতকর্মে অতিষ্ঠহয়ে ফুঁসে উঠে স্থানীয় বাসিন্দারা।
শাহজালাল নামের এক ভুক্তভোগী বলেন, আমার সকল কাগজপত্র সঠিক থাকা সত্বেও আমার কাছে ৮০ হাজার টাকা দাবি করেছিল। একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলে ৩০ হাজারে কাজ করিয়েছি।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির যুগ্ম আহবায়ক মেহরাব হোসেন প্রভাত জানান, বেশ কিছু দিন ধরে মানুষের মুখে মুখে আলোচিত হচ্ছিল এখানে ঘুষ ছাড়া কোন কাজ হয় না। ঠুনকো যুক্তি আর কাগজপত্রে মিথ্যা ত্রুটি দেখিয়ে জমি মালিকদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে। এ নিয়ে ক্ষোভ বাাড়তে থাকে ভুক্তভোগী সহ সাধারণ মানুষের মধ্যে। ভূমি জরিপের নামে মানুষের ভোগান্তির খবরে আজকে আমরা এসে হাতে-নাতে ধরেছি। যেখানেই অপরাধ আর দুর্নীতি হবে সেখানেই ছাত্র-জনতা ছুটে যাবে।
তিনি আরও বলেন, এই দেশ সকলের। সংস্কারের দায়িত্বও সকলের। প্রতিবাদ করতে হবে, প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। যদি ভাবেন আপনি একা তাহলে সেটা ভুল। এক ছাড়া একশো যেমন পূর্ণ হয় না, তেমনি কেউ শুরু না করলে শেষ করা সম্ভবও হবে না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে আঙ্গুল তুলুন, প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। আজকে একজন দিয়ে শুরু হলেও শেষ হয়েছে ১০০ জন ভুক্তভোগী দিয়ে এবং উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আজকের এই ঘটনা আমাদের এটাই শিক্ষা দেয়, দশে মিলে করি কাজ হারি জিতি নাহি লাজ। এমন বাংলাদেশ ই তো চেয়েছিলাম। ধন্যবাদ জানাই সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা এবং ডিসি মহোদয়কে, তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য।
ছাত্র-জনতাকে নিয়ে উপস্থিত হওয়া আপ বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ফাইন্যান্স কমির প্রধান মীর ছিবগাতুল্লাহ্ তকি জানান, ভূমি জরিপের নামে অসাধু এই কর্মকর্তারা এ থানার বিভিন্ন বাড়ি ও জমি মালিকদের জিম্মি করে মোটা অংকের অর্থ বানিজ্য করে আসছিল। তাদের অপরাধে অতিষ্ঠ হয়ে স্থানীয়রা আমাদের ছাত্র-জনতাকে বিষয়টি জানালে আমরা হাতেনাতে ধরতে সক্ষম হই। তবে এই দুজনকে আটকাতে পারলেও বাকিরা আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে গেছেন।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনূর আলম জানান, আমি অবরুদ্ধের খবর জেনে এসআই ওয়াসিম আকরামকে টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। অবররুদ্ধ ঐ দুই কর্মকর্তাকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।