ফতুল্লায় পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীসহ ২১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ জনকে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) ভোররাতে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম।
পুলিশের করা মামলায় বলা হয়েছে, সরকার উৎখাত ও দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা বেতন বৃদ্ধির দাবিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে সংগঠিত করেন। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে এক থেকে দেড় হাজার শ্রমিককে নিয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক অবরোধ করা হয়। এ সময় সড়কে আগুন জ্বালিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
মামলার বাদী ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিলন ফকির এজাহারে উল্লেখ করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বারবার আন্দোলনকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার প্রচেষ্টার মধ্যে বিক্ষুব্ধ শ্রমিক ও তাদের উসকানিদাতারা পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ৮৩ রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।
মামলায় গ্রেপ্তার ছয়জন হলেন ফতুল্লার লামাপাড়ার মফিজুল ইসলামের ছেলে শামীম হাসান (২৮), কোতালেরবাগ বউবাজার এলাকার বিল্লাল হোসেনের ছেলে মো. মামুন (২৬), ফতুল্লা রেলস্টেশন এলাকার বাচ্চু মিয়ার ছেলে ওমর ফারুক (৩৮), রামারবাগ এলাকার ইমান তৌফিকের ছেলে ইমান ইমন (২৬), কোতালেরবাগ এলাকার প্রয়াত লিয়াকত হোসেনের ছেলে শাহিন আহম্মেদ এবং কায়েমপুর এলাকার আক্তারুজ্জামানের ছেলে আতিকুর রহমান (২৫)।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ওসি মাহবুব আলম। আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ বলেন, রিমান্ড আবেদনের শুনানির জন্য আগামী ৯ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের নারায়ণগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এ ছাড়া মামলার এজাহারে নাম থাকা অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোস্তফা কামাল (৪৮), সদস্য মজিবর রহমান (৪৬), জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি টিপু সুলতান (৪০), যুবলীগ নেতা আজমত আলী (৪৫), মোফাজ্জল হোসেন চুন্নু (৪৫) ও রাকিব হোসেন (২৮)।
এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে ফতুল্লার কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এ পরিস্থিতি চলে।