বন্দরে হোসিয়ারি শ্রমিক আলমগীর হোসেন হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. সোহেবসহ এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১। শনিবার (৪ জুলাই) র্যাব-১১-এর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
র্যাব জানায়, গত ৩ জুলাই রাত সাড়ে ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার গোদনাইল এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি মো. সোহেব (৪২) এবং ১০ নম্বর আসামি মো. সুমনকে (৩৮) গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত বছর ৩ অক্টোবর সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে বন্দর উপজেলার সালেহনগর এলাকার একটি অটোরিকশা গ্যারেজে টাকা-পয়সার লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার জন্য একটি সালিশ বৈঠক বসে। ওই বৈঠকে আলমগীর হোসেনের ছেলে মুন্নার সঙ্গে জুয়েল নামে এক ব্যক্তির আর্থিক বিরোধ নিয়ে আলোচনা চলছিল।
র্যাবের জানায়, সালিশ চলাকালে পাওনা টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে জুয়েল প্রথমে আলমগীরকে মারধর শুরু করেন। পরে অন্য আসামিরাও পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র, লাঠি, এসএস পাইপ ও হাতুড়ি দিয়ে আলমগীরের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে প্রথমে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ৪ অক্টোবর সকালে আলমগীর হোসেন মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের বোন কল্পনা বেগম বাদী হয়ে বন্দর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান চালিয়ে আসছিল র্যাব। এর ধারাবাহিকতায় প্রধান আসামিসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।