বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ভুলতা-গাউছিয়া সড়ক ভাঙনে চাপ এশিয়ান হাইওয়েতে: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১০ কিলোমিটার যানজট অটোরিকশা চালক হ.ত্যার প্রতি.বাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বিক্ষোভ: যানজট দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফতুল্লার বিকাশ ব্যবসায়ী আতিকুল হ.ত্যা মামলার র.হস্য উদঘাটন: গ্রেফ.তার ৬ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গু.লিবি.দ্ধ সাহালমকে জেলা পরিষদের আর্থিক অনুদান প্রদান স্ত্রীর সঙ্গে পর.কীয়া স.ন্দেহ: ঘুমন্ত ছোট ভাইকে খু.ন ঐতিহাসিক পঙ্খিরাজ নদী পুনঃখননের দাবীতে সোনারগাঁওয়ে মানববন্ধন ফতুল্লায় পোশাক কারখানার স্টোররুমে এজিএমের ঝুলন্ত মর.দেহ উদ্ধার রাতভর খোঁজাখুঁজি: সকালে লেকে ভাসলো দুই কিশোরের ম.র.দে.হ ফতুল্লায় ভয়া.বহ বি.স্ফো.রণ: বাবার মৃ.ত্যু: হাসপাতালে সন্তানরা

পুলিশের গু.লিতে এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানো গাজী সালাউদ্দিন আর নেই

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি
  • Update Time : সোমবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২৩৩ Time View

২০২৪ এর জুলাইতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে পুলিশের ছররা গুলিতে এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন গাজী সালাউদ্দিন। অপর চোখেও দেখছিলেন ঝাপসা। মুখমন্ডলের পাশাপাশি গলায়ও একাধিক গুলি লেগেছিল তার। চিকিৎসক জানিয়েছিলেন, গলায় লাগা গুলির স্পিøন্টার শ্বাসনালি ছুঁয়ে আছে, এটি বের করা দুঃসাধ্য। শরীরে এ স্পিøন্টার নিয়েই ১৫ মাস পর রোববার (২৬ অক্টোবর) রাতে মারা যান এ জুলাই যোদ্ধা।

সালাউদ্দিনের বড়ছেলে আমির ফয়সাল রাতুল বলেন, “চোখ ছাড়াও বাবার সারামুখে, গলায়, হাতেও গুলি লেগেছিল। গলার স্পিøন্টারগুলো বের করা যায়নি। ডাক্তার তাকে কথা প্রায় বলতেই নিষেধ করে দিয়েছিলেন। গত কয়েকদিন খুব কাশতেন এবং কাশির সাথে রক্তও পড়তো।”

রোববার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর শ্বাসকষ্ট শুরু হলে রাত নয়টার দিকে তাকে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তিনি মারা যান বলে জানান রাতুল।

নারায়ণগঞ্জের গোদনাইলে বাড়ি সালাউদ্দিনের। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া একতলা ভবনের দু’টি কক্ষে স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে থাকতেন তিনি। অন্তর্বর্তী সরকারের গেজেটভুক্ত অতি গুরুতর আহতের তালিকার ১৩২ নম্বরে ছিল তার নাম। সরকারিভাবে আর্থিক সহযোগিতার পাশাপাশি তার কর্মসংস্থানের জন্য মুদি দোকানের মালামালও কিনে দিয়েছিল জুলাই ফাউন্ডেশন।
শারীরিক অবস্থার কারণে দোকানে খুব একটা সময়ও দিতে পারতেন না সালাউদ্দিন। বড় ছেলে রাতুলই বসতেন দোকানটিতে।

পরিবারের সদস্যরা বলেন, গত বছরের জুলাইতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জ শহর যখন উত্তাল তখন ভূঁইগড় এলাকার একটি দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন সালাউদ্দিন। ছাত্র-জনতার এই আন্দোলনে অংশ নেন সালাউদ্দিনও। ১৯ জুলাই আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাঁধলে আরও অনেকের সঙ্গে গুলিবিদ্ধ হন তিনিও।

নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পরদিন তাকে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারও হয় তার। কিন্তু এক চোখের দৃষ্টি আর ফিরে পাননি। শুধু তাই নয়, শরীরের কয়েকটি অংশে গুলির স্পিøন্টার বয়ে বেড়াচ্ছিলেন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত।

“শুরুর দিকে ধার-দেনা করে বাবার চিকিৎসা চালাইছি। পরে সরকার পতনের পর নতুন সরকার সাহায্য-সহযোগিতা করলো। কিন্তু তার চোখের দৃষ্টি আর উনি পাননি। গলার স্পিøন্টারটাও তাকে অনেক ভোগাচ্ছিল। কাশির সাথে তার রক্ত পড়তো, গলা ব্যথা করতো কিন্তু আমরা জিজ্ঞেস করলেই চেপে যেতেন। কাশির ধমক উঠলে ঘর থেকে বেরিয়ে গিয়ে তারপর কাশতেন”, কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলছিলেন সালাউদ্দিনের ছেলে রাতুল।

তবে, আরও উন্নত চিকিৎসা করানো সম্ভব হলে সালাউদ্দিন বেঁচে থাকতেন বলে মনে করেন তার স্ত্রী রানী বেগম। স্বামীকে হারিয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত এ নারী বলেন, “আমাদের কোনো পুজি নাই। উনি যাই পাইতেন কাজ করতেন। এ দিয়েই সংসার চলতো। এইভাবে তারে হারামু ভাবি নাই।”

সোমবার (২৭ অক্টোবর) সকালে গোদনাইল বাজারে সালাউদ্দিনের জানাজার নামাজ পড়ানো হয়। পরে স্থানীয় একটি কবরস্থানে তার দাফন করা হয়েছে বলে জানান পরিবারের সদস্যরা।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
Translate »