ফতুল্লায় নির্মাণাধীন ডিপিডিসি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সিকিউরিটি গার্ডদের জিম্মি করে প্রায় অর্ধকোটি টাকার বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম লুটের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ডাকাত সর্দার লিটনসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১১। এ সময় লুণ্ঠিত বৈদ্যুতিক মালামাল, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক, খেলনা পিস্তল, দেশীয় অস্ত্র ও ১২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে র্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ৮টার দিকে শ্রমিকদের পোশাক পরে তিনজন ডাকাত ডিপিডিসির নির্মাণাধীন বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনে প্রবেশ করে। প্রবেশের পর তারা প্রথমে গেটের ভেতরে ডিউটিরত সিকিউরিটি গার্ড আব্দুল কুদ্দুস মিয়াকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে ফেলে।
এরপর আরও ১৫-২০ জন ডাকাত সাবস্টেশনে ঢুকে অন্যান্য গার্ডদের একইভাবে জিম্মি করে এবং মারধর করে। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে তারা সাবস্টেশনে রাখা কন্ডাক্টর ক্যাবল, রিং নেটওয়ার্ক, ট্রান্সফরমার ক্যাবল, বৈদ্যুতিক তামার তারসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ লুট করে।
লুণ্ঠিত মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য ৬৫ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে র্যাব। ডাকাতরা পালানোর আগে সিকিউরিটি গার্ড ও শ্রমিকদের একটি কক্ষে হাত-পা বেঁধে আটকে রেখে মালামাল ট্রাকে তুলে নিয়ে যায়।
পরে ঘটনাস্থলের দোভাষী মো. সেলিম মিয়া বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় ডাকাতি মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রচারিত হলে দেশব্যাপী ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।ঘটনার পর র্যাব-১১ গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে ডাকাতদের ধরতে অভিযান শুরু করে।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১১ এর সদর কোম্পানির একটি দল ২২ সেপ্টেম্বর থেকে নারায়ণগঞ্জ ও ডিএমপি ঢাকা এলাকার বিভিন্ন স্থানে পৃথক অভিযান চালিয়ে ডাকাত সর্দার লিটনসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
এসময় তাদের হেফাজত থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক, ১টি টাক, ২টি খেলনা পিস্তল, ২টি চাকু, ১টি চাপাতি এবং ১২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জের মৃত জাহাঙ্গীরে ছেলে মো. লিটন (৩৭), ঢাকার ডেমরা সারুলিয়া এলাকার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে মো. আক্তার হোসেন (৪৪), একই এলাকার মো. সিদ্দিকের ছেলে মো. রোমান (৩২), রাজধানীর যাত্রাবাড়ী আদর্শবাগ এলাকার আনছার আলীর ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম (২৮), ডেমরা সারুলিয়া এলাকার মৃত তোরাব আলীর ছেলে সাইদুল ইসলাম (৩১), যাত্রাবাড়ী কাজলা এলাকার মৃত মুন্সি আ. রাজ্জাকের ছেলে সাগর মুন্সি (৩৮), যাত্রাবাড়ী মিদ্দাবাড়ি এলাকার আ. বারেকের ছেলে মো. আরিফ (২৬), ডেমরা সারুলিয়া এলাকার আ. লতিফের ছেলে মো. রিয়াজ (৩৮) ও ভোলার শ্যামপুর এলাকার কাঞ্চন মাঝির ছেলে মো. শহিদুল (৪০)।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃত ডাকাত সর্দার মো. লিটনের নামে বিভিন্ন থানায় ৫টি ডাকাতি, ২টি অস্ত্র, ১টি মাদক মামলাসহ মোট ৯টি মামলা রয়েছে। মো. রোমানের নামে রয়েছে ৪টি মাদক মামলা এবং সাগর মুন্সির নামে ১টি মামলা।
র্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন জানান, এই অভিযান অব্যাহত থাকবে যাতে এ ধরনের সংঘবদ্ধ ডাকাত দলকে আইনের আওতায় আনা যায় এবং ভবিষ্যতে এমন অপরাধ প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।