আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, “আমরা চাই মানুষ ছোটখাটো বিরোধ নিয়ে কোর্টে ছুটোছুটি না করে সহজেই ন্যায়বিচার পাক। এজন্যই লিগ্যাল এইড ও ই-বেইলবন্ডসহ নানা সংস্কার হাতে নিয়েছি।”
বুধবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণে ‘ই-বেইলবন্ড’ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব, অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবু শামীম আজাদ, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন প্রমুখ।
ড. আসিফ নজরুল বলেন, “আমরা লিগ্যাল এইডের ব্যবস্থা করেছি, যাতে সাধারণ মানুষ অযথা আদালতে যেতে না হয়। এখন এসব পাইলট পর্যায়ে চলছে। আশা করছি আগামী ২-৩ মাসের মধ্যে সারাদেশে ই-বেইলবন্ড ও অনলাইন লিগ্যাল এইড চালু করতে পারবো।”
তবে তিনি বলেন, “নিম্ন আদালতে সংস্কার হলেও উচ্চ আদালতে পরিবর্তন না এলে বিচারপ্রার্থীরা আসল সুফল পাবে না। যেমন- শিশু আছিয়ার মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় নিম্ন আদালতে আমরা এক মাসে বিচার শেষ করতে পারলেও উচ্চ আদালতে সেই মামলার নিষ্পত্তি কবে হবে বলা মুশকিল।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের উচ্চ আদালতের বিচারকরা কখনো নিম্ন আদালতে ইন্সপেকশনে যান। কিন্তু অনেক সময় সেটি আনন্দ ভ্রমণে পরিণত হয়। এ বাস্তবতা বদলাতে হবে।”
নারায়ণগঞ্জের প্রসঙ্গ টেনে উপদেষ্টা বলেন, “নারায়ণগঞ্জ একসময় গডফাদারদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। যেখানে ন্যায়বিচার পাওয়া ছিল কঠিন। আমরা সেই পরিস্থিতি পরিবর্তন করতে চাই। ন্যায়বিচারের নতুন সূচনা আমরা নারায়ণগঞ্জ থেকেই শুরু করছি। আমরা চাই নারায়ণগঞ্জ হোক নির্যাতনের জায়গা থেকে মুক্তির জায়গা।”
সরকারি কর্মকর্তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া দ্রুত করার বিষয়ে তিনি বলেন, “ডাক্তার, ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশসহ সরকারি কর্মকর্তাদের সাক্ষ্য অনলাইনে নেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছি, যাতে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হয়।”