মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১১:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
দক্ষিণ আফ্রিকায় অ.গ্নি.কা.ন্ডে ৬ বাংলাদেশির মৃ.ত্যু: নারায়ণগঞ্জের এক গ্রামে তিন পরিবারের মাতম আমি নি.র্দো.ষ হয়েও অ.প.রা.ধী : আইভী সোনারগাঁওয়ে ট্রাকের ধা.ক্কায় ১ জন নি.হ.ত: আ.হ.ত ৪ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া আমরা সরকারকে কোন ছাড় দিতে প্রস্তুত নই: মোবারক হোসাইন সোনারগাঁয়ে যুবককে কু.পি.য়ে হ.ত্যা শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহম্মেদ পলাশের ক্যাশিয়ার টিক্কা গ্রেফতার সিদ্ধিরগঞ্জে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৫৬ জনের বিরুদ্ধে পুলিশের মামলা : গ্রেপ্তার ২ (তালিকাসহ) আব্দুর রশিদের হামলায় গুরুতর আহত বৃদ্ধ, মাথায় ১১ সেলাই-অভিযোগ রাষ্ট্রীয় পদক পাওয়া ডুবুরি সাদিকের মৃ.ত্যু নারায়ণগঞ্জে পরীক্ষা শেষে মিছিলে শিক্ষার্থীরা: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি

দক্ষিণ আফ্রিকায় অ.গ্নি.কা.ন্ডে ৬ বাংলাদেশির মৃ.ত্যু: নারায়ণগঞ্জের এক গ্রামে তিন পরিবারের মাতম

স্টাফ রিপোর্টার
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬
  • ২৪ Time View

দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুইন্সটাউনে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন ছয় বাংলাদেশি। নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। তাদের মধ্যে তিনজনই সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নের ক্রোকেরচর গ্রামের বাসিন্দা। ফলে পুরো গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। যে বাড়িগুলোতে কয়েকদিন আগেও প্রবাসী স্বজনদের সঙ্গে ফোনে কথা হতো, সেখানে এখন শুধুই কান্না আর আহাজারি।

নিহতদের স্বজনরা জানান, সোমবার (২৭ জুলাই) দিবাগত রাতে কুইন্সটাউনে আলীরটেক ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রওশন আলীর মালিকানাধীন একটি দোকানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সে সময় দোকানের ভেতরে সাতজন বাংলাদেশি অবস্থান করছিলেন। আগুন দ্রুত পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়লে ভেতরে থাকা কর্মীরা বের হওয়ার সুযোগ পাননি। এতে ছয়জন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তবে একজন প্রাণে বেঁচে গেছেন বলে জানাগেছে।

নিহতরা হলেন আলীরটেক ইউনিয়নের ক্রোকেরচর গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে মো. ফাহিম (২৯), আলী মিয়ার ছেলে আপন আহমেদ (২৩), মৃত শরব আলীর ছেলে নূর মোহাম্মদ (৫৫), একই ইউনিয়নের তৈলখিরার চর গ্রামের ফারুক হোসেনের ছেলে মো. ফয়সাল (২৬), ফতুল্লার বক্তাবলী ইউনিয়নের কানাইনগর এলাকার শাহিন (৩০) এবং মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিম পৌরসভার কালিন্দিপাড়ার বাসিন্দা রাজ্জাক (৫৫)।

আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে মৃত্যুর খবর নারায়ণগঞ্জে পৌঁছানোর পর থেকেই স্বজনদের বাড়িতে ভিড় করতে থাকেন আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা। কেউ সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন, আবার কেউ বাকরুদ্ধ হয়ে বসে আছেন। একই গ্রামের তিনজনের একসঙ্গে মৃত্যুর ঘটনায় ক্রোকেরচর গ্রাম যেন শোকের জনপদে পরিণত হয়েছে।

নিহত আপন আহমেদের বাবা আলী মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “অভাবের সংসার চালাতে চার বছর আগে ছেলেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাঠিয়েছিলাম। ওর পাঠানো টাকায় সংসার চলত। ও ছিল আমাদের পরিবারের সবচেয়ে বড় ভরসা। এখন সব শেষ হয়ে গেছে। ছেলেকে আর কোনো দিন দেখতে পাব না।”

তিনি আরও বলেন, “সকাল থেকে বিদেশ থেকে ফোন আসছিল। পরে আগুনের ভিডিও দেখে বুঝতে পারি বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। কিছুক্ষণ পর নিশ্চিত হই, আমার ছেলে আর নেই।”

স্বজনরা জানান, নিহত ফাহিম প্রায় ১১ বছর ধরে দক্ষিণ আফ্রিকায় ছিলেন। পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির জন্য দীর্ঘদিন ধরে কঠোর পরিশ্রম করেছেন তিনি। দেশে ফিরে নতুন করে সংসার গড়ার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু সেই স্বপ্ন আগুনে পুড়ে শেষ হয়ে গেছে।

নিহত নূর মোহাম্মদ বয়সে বড় হলেও পরিবারের দায়িত্ব পালনের জন্য এখনও প্রবাসে কাজ করছিলেন। অন্যদিকে তরুণ ফয়সাল, শাহিন ও রাজ্জাকও নিজেদের পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার জন্য বিদেশে কর্মরত ছিলেন। একটি দুর্ঘটনা মুহূর্তেই ছয়টি পরিবারের জীবনে নেমে এনেছে অপূরণীয় ক্ষতি।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করে। তবে কী কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

দোকানটির মালিক ও আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রওশন আলী বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। তিনি বলেন, “দুপুরের দিকে জানতে পারি আমার দোকানে আগুন লেগেছে। ভিডিও কলে আগুনের ভয়াবহতা দেখেছি। তখন দোকানের ভেতরে সাতজন কর্মী ছিলেন। ছয়জনকেই হারিয়েছি। তারা সবাই আমার প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। এই ক্ষতি কখনো পূরণ হওয়ার নয়। নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি এবং ভবিষ্যতেও করব।”

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বার্তা পাওয়া যায়নি। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী নিহতদের মধ্যে পাঁচজন নারায়ণগঞ্জের এবং একজন মুন্সীগঞ্জের বাসিন্দা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
Translate »