ভূমিকম্পের সময় নারায়ণগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় একাধিক ভবনের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। অনেকেই ভূমিকম্পের সময় তাড়াহুড়ো করে ভবন থেকে নামতে গিয়ে অনেকেই আহত হয়েছেন। আদমজী ইপিজেড এলাকায় ভূমিকম্পের আতঙ্কে কারখানা থেকে বের হতে গেয়ে ৭ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে সারাদেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জেও ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হলে এর প্রভাবে ফাটল দেখা দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভূমিকম্পে সিদ্ধিরগঞ্জের সিদ্দিকিয়া মাদ্রাসার ভবনের একটি দেয়াল ধসে যায় এবং আশেপাশের একাধিক ভবনের দেয়ালে ফাটল দেখা দেয়। এছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জ আটি হাউজিং এলাকার ৫ নং রোডের দুইটি বাড়ি ও দুই নং রোডের একটি বাড়ি একটির উপর আরেকটি হেলে পড়ার মতো অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।
এদিকে ভূমিকম্পের সময় সিটি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল হিরাঝিল বাংলা শাখার মিডিয়ামের ইনচার্জ আব্দুর নূর ও ডে কেয়ার শাখার ইনচার্জ কামাল উদ্দিন দ্রুত শিক্ষার্থীদের নিরাপদে সরি’েয নেন। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, ভেনাস এডোকেশন সোসাইটির আয়োজনে আজ বৃত্তি পরীক্ষা ছিল, যেখানে বিভিন্ন স্কুলের ৪ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। একজন শিক্ষক বলেন, “আমরা জীবনের মায়া ত্যাগ করে প্রতিটি বাচ্চাকে নিরাপদে বের করে নিয়ে আসতে পেরেছি।
স্থানীয়রা জানান, সকালে ভূমিকম্প হলে এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন আদমজী ইপিজেডের অভ্যন্তরের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা। এ সময় দৌড়াদৌড়ির মধ্যে আদমজী ইপিজেডের অনন্ত ওয়াশিং লিমিটেডের ৬ জন মহিলা শ্রমিক এবং সিম্বা ফ্যাশন লিমিটেডের ১ জন পুরুষ শ্রমিক আতঙ্কিত হয়ে অসুস্থ হয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে অসুস্থ শ্রমিকদের প্রথমে বেপজা মেডিকেলে নেওয়া হয়। সেখানে ৪ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাদের বাড়ি ফেরত পাঠানো হয়। অবশিষ্ট ৩ জনকে চিকিৎসার জন্য ৩০০ শয্যার খানপুর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা খানপুর হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক আবুল বাশার জানান, আদমজি ইপিজেডের ৩ জন শ্রমিকসহ নারাযণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার ৭ জন আতঙ্কগ্রস্থ রোগী খানপুর হাসপাতালে এসেছিল। তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বা চলে গিয়েছে। বড় কোন ক্ষতি হয়নি।