শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ০২:৪৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে জনগণ হিমালয় হয়ে দাঁড়াবে: শফিকুর রহমান ফতুল্লায় গার্মেন্টসে বয়লার বি.স্ফোর.ণ: আহত ১৫: সড়ক অব.রোধ: শ্রমিক বিক্ষোভ ফতুল্লায় ঝোপ থেকে ‘পেন গা.ন’ ও ব্যবহৃত কা.র্তু.জের খোসা উদ্ধার নারীদের জন্য দুই বিশেষায়িত হাসপাতাল: সারা দেশে নিয়োগ পাবেন ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি লেকে গোসল করতে নেমে একই পরিবারের তিনজনের সলিল সমাধি মদনপুরে গ্যাস লিকেজ থেকে বি.স্ফোর.ণ: দ.গ্ধ ৫ ড্রাম ট্রাকের চা.পা.য় ফতুল্লার ছাত্রদল ও যুবদল নেতা নি.হ.ত রূপগঞ্জে মেঘনার পানি শোধনাগার: প্রতিদিন ৫০ কোটি লিটার পানি পাবে ঢাকাবাসী দিগুবাবুর বাজারে পলিথিনবিরোধী অভিযান: ৬১৩ কেজি জ.ব্দ: জরিমানা নারায়ণগঞ্জের এক নম্বর গড.ফাদার আইভীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর

সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে জনগণ হিমালয় হয়ে দাঁড়াবে: শফিকুর রহমান

স্টাফ রিপোর্টার
  • Update Time : শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬
  • ২৩ Time View

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান বলেছেন, ২০২৪ সালের গণ-আন্দোলন ও আত্মত্যাগের কারণেই ২০২৬ সালের নির্বাচন সম্ভব হয়েছে। সেই আন্দোলনের শহীদদের অবদান ভুলে গেলে চলবে না। শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে মহানগর জামায়াতে ইসলামীর কর্মীসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. শফিকুর রহমান বলেন, “২৪ হয়েছিল বলেই ২৬ সালের নির্বাচন হয়েছে। ২৪ না হলে ২৬ সালে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল না। তাদের রক্তের বিনিময়েই আমরা সরকারি ও বিরোধীদল হয়েছি। আমি অনুরোধ করবো- এসকল শহীদদের কেউ যেন খাটো করে না দেখেন।”

তিনি বলেন, “আমি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই ১৯৪৭, ৫২ ও ৭১সহ বিভিন্ন সময় যারা বুক চিতিয়ে সংগ্রাম করেছেন। ২০২৪ সালে যারা শহীদ হয়েছেন- আমি সে সকল শহীদ পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”

সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমীর বলেন, “বিগত নির্বাচনে হাজারও জালিয়াতি, সন্ত্রাস ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পরে আপনারা ১১ দলীয় জোটকে একটি আসন উপহার দিতে পেরেছিলেন। ভোটের মত রেজাল্ট গণনা সুষ্ঠু হলে অন্য আসনেও জোটের বিজয় হত।”

নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়া নিয়ে দলের কর্মী-সমর্থকদের অভিমানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “অনেকের আমাদের ওপর অভিমান এ রায় কেন মেনে নিলেন। আমরা বলেছি ১৭ বছর দেশ ছিল স্বৈরাচারের কবলে। মানুষ তো ভোট দিয়েছে।”

গণভোটের প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে দেশজুড়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ব্যাপক জনসমর্থন ছিল। একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমাদের অবস্থান সুদৃঢ় ছিল। আমাদের মার্কা ও গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “বর্তমান সরকার প্রথমে হ্যাঁ এর পক্ষে ছিল না। তারা গোপনে না এর পক্ষে ছিল। পরে জনরোষের মুখে রংপুরে আবু সাঈদের এলাকায় গিয়ে তিনি (তারেক রহমান) বলেছিলেন হ্যাঁ ভোট দিতে। তিনি তো সংসদের নেতা। এই গণভোটে ৬৭ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছে। তার মন্ত্রী বলেছে ভোটটা যাতে হয়ে যায় এজন্য হ্যাঁ ভোট চেয়েছে। এগুলো করলে জনগণের রাজনীতিবিদদের প্রতি সম্মান কীভাবে থাকবে।”

সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “যেহেতু প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ হ্যাঁ এর পক্ষে ভোট দিয়েছে সকল সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে হবে। এখন সময় আছে ফিরে আসুন, জনগণের রায় বাস্তবায়ন করুন। নয়তো জনগণ আপনাদের সামনে হিমালয় পাহাড় হয়ে দাঁড়িয়ে যাবে।”

সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে জামায়াত আমীর বলেন, “ইতিমধ্যে সরকার অনেক অঘটন ঘটিয়ে ফেলেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে গভর্নর নিয়োগ, ইসলামি ব্যাংকের দিকে কালো হাত, বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় ভিসি নিয়োগ, জেলা পরিষদের মত গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দলীয় নেতা ও ক্যাডার নিয়োগ দিয়ে এক দলীয় শাসন কায়েম করছে। শেখ মুজিবুর রহমানও একদলীয় শাসন কায়েম করেছিল। টিকতে পারেনি।”

দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “সরকার গঠনের আগে ও পরে আপনারা চাঁদাবাজদের হাত আটকাতে পারেননি। ঘুষ দুর্নীতি বন্ধ করেননি, বরং তার মিটার আগের থেকে বেড়ে গেছে। কিছু দলকানা মানুষ ও গোষ্ঠীর হয়ত ভাগ্য পরিবর্তন হবে। মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে না।”

নারায়ণগঞ্জের প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, “এ নারায়ণগঞ্জ একসময় প্রাচ্যের ড্যান্ডি ছিল। নারায়ণগঞ্জ তার গৌরব হারিয়ে ফেলেছে। একসময় এটা সন্ত্রাসের নগরী হিসেবে পরিণত হয়েছিল। ত্বকী আপনাদের সন্তান, তার হত্যার বিচার কী পেয়েছেন?”

তিনি আরও বলেন, “একজন নেতা ছিল, বলতো খেলা হবে। এখন কোথায় খেলছে? অহংকার ভালো নয়। নতুন কোন গডফাদার এখানে তৈরি হোক আমরা চাই না।”

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি এখানে আসার আগে ব্যবসায়ী বন্ধুদের সাথে বসলাম। কী যেন আতঙ্ক তাদের তাড়া করছে। তারা কথা বলতে পারছে না। একজন বলেই ফেললেন আমরা ভাল নেই। চাঁদাবাজরা আমাদের ভাল থাকতে দিচ্ছে না।”

তিনি অভিযোগ করেন, “দলের নেতা বলে দুর্নীতির টুটি চেপে ধরবে। আর ঘরে ঘরে চাঁদাবাজদের পৌঁছে দিয়েছে।”

নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে সৎ নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা চাই না আমাদের প্রিয় নারায়ণগঞ্জ অশান্তি ও চাঁদাবাজদের কবলে পড়ে থাকুক। ড্রেনের পানি দিয়ে যেমন অজু হবেনা তেমনি ভালো মানুষ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন হবেনা।”

তিনি বলেন, “এমন মানুষ লাগবে যে আল্লাহকে ভয় করে। এমন মানুষ ছাড়া কী আমরা নিরাপদ নারায়ণগঞ্জ গড়তে পারবো? আমরা সৎ নেতৃত্ব কায়েম করবো জনগণকে তার অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে।”

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের দাবি সকল অনির্বাচিত প্রশাসক সরিয়ে দ্রুত নির্বাচন দেয়া হোক। নারায়ণগঞ্জ মহানগরীতে অনির্বাচিত প্রশাসক সরিয়ে দিয়ে অনতিবিলম্বে নির্বাচন দেয়া হোক।”

সভায় আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে দলীয় অবস্থানও তুলে ধরেন জামায়াত আমীর। তিনি বলেন, “আগামী নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী এখানে প্রার্থী দিবে। আমি আপনাদের নেতা আব্দুল জব্বারকে এখানে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করছি। ২৭টি ওয়ার্ডের প্রতিটি ওয়ার্ডে আমরা জনগণের সেবা করতে পারে এমন প্রার্থী আমরা উপহার দিবো।”

নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আব্দুল জব্বারের সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও এমপি সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির ও এমপি নুরুল ইসলাম বুলবুল ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
Translate »