র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান বলেছেন, “দূর্গা পূজা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য সবচেয়ে বড় একটি অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানটি সুন্দর, সুষ্ঠুভাবে এবং সফলভাবে আয়োজন করার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ছিলো।”
বুধবার (১ অক্টোবর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের রামকৃষ্ণ মিশনে শারদীয় দুর্গাপূজা পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
র্যাব মহাপরিচালক বলেন, “আশা করি এবারের উৎসবটি আগামীকাল বিজয়া দশমীর মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। এ পর্যন্ত যেভাবে চলছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট। সারাদেশে ৩৩ হাজারেরও বেশি পূজা মন্ডপ ছিল। সেখানে আমরা নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছি। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেরেছি।”
তিনি আরও বলেন, “উৎসবটি অল্পকিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া ভালোভাবেই হয়েছে। প্রায় ৩৫ হাজার মন্ডপের মধ্যে ৪৯টি মন্ডপে কিছু নাশকতাকারী, কিছু কাপুরুষ ও অসুস্থ মানসিকতার লোকজন বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করেছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমরা কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছি এবং এ পর্যন্ত ১৯ জনের বেশি নাশকতাকারীকে গ্রেপ্তার করেছি।”
এ কে এম শহিদুর রহমান বলেন, “আমাদের এই সম্প্রীতির বাংলাদেশ সব ধর্মের, সব গোত্রের। এ দেশ শুধু কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের লোকের জন্য নয়। ১৮ কোটি মানুষের এ দেশ সবার। এখানে যিনি যে ধর্মেরই হোন না কেন, যে বর্ণের বা যে গোত্রেরই হোন না কেন, আমরা সবাই সমান অধিকার নিয়ে আমাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করব, একে অপরের সহায়তা করব। এখানে বাধা দেওয়ার বা বিঘ্ন ঘটানোর কোনো সুযোগ নেই। যারা বাধা দেয় বা বিঘ্ন ঘটায় তারা আইন ভঙ্গ করে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।”
আগামী দিনে আরও সুন্দরভাবে উৎসব উদযাপনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে র্যাব মহাপরিচালক বলেন, “আমরা আশা করব, এবারের মতো আগামীবারো এর চেয়েও ভালোভাবে উৎসবগুলি উদযাপন করতে সক্ষম হবো। কোনোভাবেই দুষ্কৃতিকারী বা নাশকতাকারীদের বরদাস্ত করা হবে না। তবে সবচেয়ে ভালো হতো যদি পূজা, মুসলমানদের ঈদের জামায়াত, খ্রিষ্টানদের বড়দিনসহ ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বেষ্টনী ছাড়াই স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালন করা যেত। যেদিন সেটা সম্ভব হবে, সেদিনের আনন্দই হবে আমাদের প্রকৃত আনন্দ।”
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন র্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এএইচএম সাজ্জাদ হোসেন, পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন, পূজা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা প্রবীর কুমার সাহাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।