ফতুল্লার কাঠেরপুল কুতুবআইল এলাকায় চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ সুমা আক্তার (৩০) হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। নৃশংস এই হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়ি ঘাতক স্বামী মোঃ শহীদুল্লাহ (৩৮)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামী শ্যালিকার সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্ককে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে নিজ স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুন করার ঘটনাটি স্বীকার করেছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে মো. শহীদুল্লাহ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
পিবিআই জানায়, ২০২৩ সালের ৭ নভেম্বর দুপুর ১২টায় ফতুল্লার কাঠেরপুল কুতুবআইল এলাকার আনিসুর রহমান বোসুর টিনশেড বাড়িতে ভাড়াটিয়া বাসায় গৃহবধূ সুমা আক্তারকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর নিহতের বোন মোছাঃ সাজেদা খাতুন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীর বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানায় মামলা দায়ের করেন। হত্যাকান্ডের উদ্দেশ্য অজ্ঞাত থাকায় মামলাটি দীর্ঘ সময় ধরে তদন্তাধীন ছিল।
দীর্ঘ তদন্তের পর ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট মামলাটি পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলায় হস্তান্তর করা হয়। পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. রিয়াজ উদ্দিন রনি তথ্য প্রযুক্তির বিশ্লেষণ এবং গোপন তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হন যে এই হত্যাকান্ডের ভিকটিমের স্বামীই জড়িত।
পিবিআই জানায়, পিবিআই টিম বুধবার দিবাগত গভীর রাত আড়াইটায় ফতুল্লা কাঠেরপুল কুতুবআইল এলাকা থেকে মূল আসামী মো. শহীদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর মো. শহীদুল্লাহকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি স্ত্রীকে হত্যার ঘটনা স্বীকার করেন।
পিবিআই আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামী মোঃ শহীদুল্লাহর সাথে তার শ্যালিকা সোহানা আক্তারের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এই পরকীয়া জের ধরে দাম্পত্য কলহ সৃষ্টি হয়। সেই কলহের কারণেই শহীদুল্লাহ ক্ষিপ্ত হয়ে তার স্ত্রী সুমা আক্তারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আসামী মোঃ শহীদুল্লাহকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়। সেখানে তিনি তার স্ত্রী সুমা আক্তারকে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী হত্যা করেছেন মর্মে ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।