শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
৪-৫ বছরের মধ্যে সড়ক-সেতুতে ভোলাকে মূল ভূখণ্ডে যুক্ত করার পরিকল্পনা: নৌপরিবহন মন্ত্রী সোনারগাঁয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের মা.রা.মা.রি : দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি সংবাদ সম্মেলনে ইয়া.বা’র বিনিময়ে ডেকে এনে গু.লি ও ছু.রিকা.ঘাতে হ.ত্যা: গ্রেপ্তার ৩ এই সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে : জামায়াতে আমীর এ দেশের মানুষ তাকে ছক্কা মেরে সীমানার বাহিরে ফেলে দিয়েছে: মামুনুল হক হঠাৎ ভূমি অফিস পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী : কর্মকর্তাদের আগাম হাজিরায় ক্ষো.ভ সিদ্ধিরগঞ্জে পরিবহন শ্রমিক সজীব হ.ত্যা: বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার নগর পার্কে ব.ন্দু.ক হাতে মা.স্তা.নি : দুই তরুণ আটক বন্দরে বুলবুল হ.ত্যা: সিফাত বাহিনীর প্রধানসহ ৯ জন গ্রেফতার বন্দরে বুলবুল হ.ত্যার প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ : তীব্র যানজট

মামলার আসামি হয়ে ১২ বছরের শিশু আদালতের বারান্দায়

আদালত প্রতিবেদক
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২০ জুলাই, ২০২৩
  • ৫১৩ Time View

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানায় দায়ের করা হত্যার উদ্দেশ্য হামলা, শ্লীলতাহানী ও হুমকির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আসামি হয়ে জামিনের জন্য আদালতের বারান্দায় ১২ বছরের শিশু এহসান। বুধবার (১৯ জুলাই) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু আদালতের বিচারক নাজমুল হক শ্যামলের আদালতে এ ঘটনা ঘটে। মামলায় ওই শিশুসহ তার পরিবারের সকল সদস্যদের আসামি করা হয়েছে। যদিও আদালতের বিচারক তাকে দেখে কাঠগড়ায় দাঁড় না করিয়ে কাছে নিয়ে কথা বলেছেন। আদালতের বিচারকসহ উপস্থিত সকল আইনজীবীরাও বিস্মিত হয়েছেন শিশুকে আসামী করায়। সেই সঙ্গে কোনো রকম শর্ত ছাড়াই আদালত তাকে জামিন দিয়েছেন। মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- সোনারগাঁওয়ের কাঁচপুর এলাকার গোলজারের ছেলে সিয়াম, শিশু পুত্র এহসান, তার বাবা গোলজার, মা হাজেরা বেগম ও চাচা বিল্লাল।

জানা যায়, গত ১৩ জুলাই নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের কাঁচপুর এলাকার আলী আকবরের স্ত্রী তাছলিমা বেগম বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত শুনানি শেষে মামলাটি আমলে নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার ইনচার্জকে আদেশ দেয়। আদেশের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট থানা মামলা গ্রহণ করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আদালতে উপস্থিত করার লক্ষ্যে অভিযান পরিচালনা করেন।

মামলায় অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্তগণ পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ধারালো চাকু, দা, লাঠি, বাঁশের কঞ্চি, লোহার রড দ্বারা সজ্জিত হয়ে তাছলিমা বেগমের ছেলে সানজিদ ও সানিকে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী হামলা করে ছুরিকাঘাত করে। তাদেরকে বাঁচাতে তাছলিাম বেগম তার মেয়ে মারিয়া ও স্বামী আলী আকবর সহ অন্যরা এগিয়ে আসলে তাদেরকে মারধর সহ শ্লীলতাহানি করে।

অভিযুক্ত আসামিরা জানান, কুরবানীর হাট দেখতে আসার কয়েকজন কিশোর ছেলেকে তাদের দোকানের সামনে আটকিয়ে ছিনতাই করছিলো তাছলিমা বেগমের ছেলেরা। এ ঘটনা দেখে ফেলেন শিশু ছেলে এহসান। পরবর্তীতে ছিনতাইয়ে অভিযুক্তদের বাড়ি দেখিয়ে দেয়ায় এহসানকে মারধর করে।

এহসানকে বাঁচাতে তার বাবা গোলজার, তার বড় ভাই এগিয়ে আসলে তাছলিমা বেগমসহ তার পরিবারের সকল সদস্যরা মিলে মারধর করে। উল্টো অভিযুক্ত করে আদালতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

শিশু এহসানকে ১৯ বছর দেখিয়ে মামলার আসামি করা হয়। রাতে বাসায় শুয়ে থাকার সময়ে বাবা ও ভাইকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। সঙ্গে আমাকেও গ্রেপ্তার করা হয় এ মামলার আসামি হিসেবে। মামলার কারণে স্কুলে যেতে পারছি না। আদালতের বারান্দায় ঘুরতে হচ্ছে। আর পরিবার চায় সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচার।

মামলায় আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু বলেন, শিশু এহসানকে কোর্টে উপস্থাপনে বিজ্ঞ আদালত এবং উপস্থিত আইনজীবীরা বিস্ময় প্রকাশ করেন। মামলার এজাহারে এহসানের বয়স ১৯ উল্লেখ করা হয়েছে। বাস্তবে সে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী এ কারণে আদালত তাকে জামিন দেয়। এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে শিশুকে আসামি করে যে মামলা করা হয়েছে এটা সঠিক হয়নি। এটা অমানবিক কোর্টে এটা ভালো ম্যাসেজ দেয় না।

তবে বাদী পক্ষের আইনজীবী কেউই আসামিদের দেখেনি। এজাহার দেখেই তার মামলাটি গ্রহণ করেছেন। মামলার আসামি হিসেবে শিশু ছেলেকে দেখে তারা নিজেরাই বিব্রত।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
Translate »