সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শ্রমিক বিক্ষোভে ৪ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে যান চলাচল শুরু ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে লিংক রোড অ.ব.রো.ধ : ভোগান্তিতে যাত্রীরা অসুস্থ শ্রমিকদল নেতাকে হুইল চেয়ার উপহার দিলেন খোরশেদ সিদ্ধিরগঞ্জে সিগারেট থেকে ফার্নেস অয়েলের গোডাউনে আ.গু.ন আমলাপাড়ায় দুর্গোৎসবের রঙে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত আইভীর ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের পর দুই আইনজীবীসহ তিনজন গ্রেপ্তার : ৫ দিনের রি.মা.ন্ড আবেদন তুহিন হ.ত্যা মামলায় পুনর্জামিন পেলেন আইভী : আদালতে হাজির হয়ে আবেদন বন্দরে স্ত্রীকে গলাকে.টে হ.ত্যার অভিযোগ : ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে স্বামীর আত্মস্বীকার সিদ্ধিরগঞ্জে প্রতিপক্ষের গু.লিতে শীর্ষ স.ন্ত্রা.সী সাহেব আলী নি.হ.ত ফতুল্লার ‘কোবরা গ্রুপের’ প্রধান সোহেল অ.স্ত্র ও মা.দ.কসহ গ্রেপ্তার

শ্রমিক বিক্ষোভে ৪ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে যান চলাচল শুরু

স্টাফ রিপোর্টার
  • Update Time : সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬
  • ২৩ Time View

ন্যুনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধে প্রায় চার ঘণ্টা বন্ধ ছিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কে যান চলাচল। এতে ভোগান্তিতে পড়েন বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা। বিকেল পাঁচটার দিকে শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

সোমবার (২ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফতুল্লার কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন। আধা ঘণ্টা পর তারা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের ওপর অবস্থান নিয়ে অবরোধ করেন।

বেলা আড়াইটার দিকে সড়কের ভূঁইগড় এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়। তবে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন। প্রায় ৩০ মিনিট বৃষ্টির পর কিছুক্ষণের জন্য সড়কে যান চলাচল শুরু হয়। পরে শিবু মার্কেট এলাকায় শ্রমিকরা আবার জড়ো হলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

মেট্রো নিটিং অ্যান্ড ডাইং কারখানার শ্রমিক শহিদুল ইসলাম বলেন, তাঁর মাসিক বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা। অথচ বাসাভাড়া দিতে হয় সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা। এক মাসের বাজারে আরও ১০ হাজার টাকা লাগে। চিকিৎসার একটি পরীক্ষা করাতেই খরচ হয় পাঁচ হাজার টাকা। বাকি খরচ কীভাবে মেটাবেন, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, তাঁদের একটাই দাবি মজুরি ৩০ হাজার টাকা করতে হবে।

হাবিবুর রহমান নামে আরেক শ্রমিক বলেন, চার সদস্যের পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী তিনি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বর্তমান বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, “বাঁচার মতো বেতন দিতে হবে। আমরা কাজ করেই বাঁচতে চাই। কাজ ছাড়া তো টাকা চাই না। শহরে বাসার ভাড়া তো আপনারা জানেন। আমাদের বেতন যদি না বাড়ায়, তাহলে গ্যাস, বিদ্যুতের দাম আর দ্রব্যমূল্য কমিয়ে দিক। নাহলে আমাদের বেতন বাড়িয়ে ৩০ হাজার করতেই হবে। নাহলে আমরা আন্দোলন থামাবো না।”

ঢাকা ও গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে হতাহতের ঘটনারও প্রতিবাদ জানান বিক্ষোভকারীরা।

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) ঘটনাস্থল থেকে বলেন, ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে কয়েকটি কারখানার কয়েকশ শ্রমিক সড়কে নেমে অবরোধ করেন। এতে যান চলাচল বিঘ্নিত হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। সড়কে পুলিশের সাঁজোয়া যান ও জলকামানের গাড়িও প্রস্তুত রাখা হয়।

অবরোধের কারণে বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। কেউ কয়েক কিলোমিটার হেঁটে, আবার কেউ বিকল্প পথে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

সিলেট থেকে আসা হাজেরা বেগম সাইনবোর্ড এলাকায় বাস থেকে নামেন। পরে আধা কিলোমিটার ব্যাটারিচালিত রিকশায় যাওয়ার পর তাঁকে নেমে হাঁটতে হয়। তাঁর গন্তব্য চাষাঢ়া, যা সেখান থেকে অন্তত ছয় কিলোমিটার দূরে।

হাজেরা বলেন, “একা একজন মহিলা মানুষ আমি দুইটা ব্যাগ নিয়ে এত পথ কেমনে হাঁইটা যামু তাই ভাবতেছি।”

অন্যদিকে, ফতুল্লা স্টেডিয়াম এলাকায় গরুবোঝাই পিকআপ ভ্যান নিয়ে যানজটে আটকে পড়েন চালক আব্দুর রহমান। তিনি বলেন, “কাঞ্চন ব্রিজ থেকে রওয়ানা হইছিলাম, গরু নিয়ে যাবো গোগনগর। কিন্তু এক জায়গায়ই গত দুই ঘণ্টা ধরে বসে আছি। সামনে কতটুকু যানজট তাও বুঝতেছি না।”

বিকেল সাড়ে চারটার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা শ্রমিকদের সড়কের এক পাশে সরিয়ে নিলে যান চলাচল শুরু হয়। তবে শ্রমিকরা তখনো বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

এ সময় জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান শ্রমিকদের উদ্দেশে বলেন, “কেউ উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করবেন না। সরকার আপনাদের নিয়ে কাজ করছে। আপনাদের বিষয়ে একটা সিদ্ধান্ত আসবে।”

শ্রমিকরা এ সময়ও তাঁদের দাবিমতো মজুরি বাড়ানোর দাবি জানান। ঘটনাস্থলে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ, জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির এবং মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু উপস্থিত ছিলেন।

বিকেল পাঁচটার দিকে শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে যেতে শুরু করলে যান চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
Translate »