সোমবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:৩০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বন্দরে তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনার প্রধান আসামী গ্রেপ্তার রূপগঞ্জে পরিবেশ দূষণকারী প্রতিষ্ঠান হাশেম ফুডসকে ২ লাখ টাকা জরিমানা মোবাইল ও ফ্রি ফায়ার গেমস কেনার লোভে নিজের বাড়িতে ৩ কিশোরের ডা-কা-তি পালপাড়ায় মার্কেটে ভয়াবহ অ-গ্নি-কা-ন্ড: ৩৫টি দোকান ভ-স্মী-ভূ-ত নির্বাচনের আগে ভারী অস্ত্র উদ্ধারের অভিযান চলমান রয়েছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নারায়ণগঞ্জে সাবেক মেয়র আইভীর দুই মামলায় জামিন নামঞ্জুর বন্দরে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে গণ-ধ-র্ষ-ণ জাতির ক্লান্তিলগ্নে খালেদা জিয়াকে খুব প্রয়োজন: আজহারুল ইসলাম মান্নান বন্দরে ককশিট কারখানায় ভ-য়া-বহ আ-গুন: ৪ ইউনিটের চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে পরকীয়ার জেরে ফতুল্লায় সুমন খলিফা খু-ন: বাউল শিল্পি স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার ৬

ফতুল্লায় বাসদের মানববন্ধন : নিত্যপণ্যের দাম কমানোর দাবি

ফতুল্লা প্রতিনিধি
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৪
  • ১৯৭ Time View

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) বিকাল ৩ টায় ফতুল্লা রেল স্টেশনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ মানববন্ধন করেছে। বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার, ধাপে ধাপে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বাতিল, নিত্যপণ্যের দাম কমানো, দাম বৃদ্ধির জন্য দায়ীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ ফতুল্লা থানা শাখা।

বাসদ ফতুল্লা থানার আহ্বায়ক এম এ মিল্টনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্য সচিব আবু নাঈম খান বিপ্লব, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদ, বাসদ ফতুল্লা থানার সদস্য সচিব এস এম কাদির, ফতুল্লা ইউনিয়ন কমিটির আহ্বায়ক বিপ্লব আহমেদ মিঠু, রি-রোলিং স্টিল মিলস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি জামাল হোসেন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম ও গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট ফতুল্লা আঞ্চলিক শাখার সভাপতি আশেকে রাসুল শাওন।

মানববন্ধনে নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার ১ ফেব্রুয়ারি থেকে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। সরকারের নির্বাহী আদেশে বিদ্যুতের দাম গড়ে ৭০ পয়সা বৃদ্ধি করেছে। ২৯ ফেব্রুয়ারি প্রজ্ঞাপন জারি করলেও ১ ফেব্রুয়ারি থেকে গ্রাহকদের বাড়তি দাম দিতে হয়েছে। দাম সমন্বয়ের নামে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করে জনগণের উপর চাপানো হয়েছে।

নেতৃবৃন্দ নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, দাম বৃদ্ধির জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া ও বিদ্যুতের বর্ধিত দাম প্রত্যাহারে দাবি জানান।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১০ সাল থেকে সমন্বয়ের নামে গ্রাহক পর্যায়ে পর্যায়ক্রমে ১৪ বার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। সর্বশেষ গত ২০২৩ এর জানুয়ারি ফেব্রুয়ারি মার্চ তিন মাস পর্যায়ক্রমে ৫% করে নির্বাহী আদেশে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছিল।

ডলারের সাথে টাকার মূল্যমানের হ্রাসের যে অজুহাত দেয়া হয়েছে তার প্রতিবাদ করে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, আমদানি রপ্তানির নামে ডলার পাচার, ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ এর সঙ্গে সাধারণ মানুষ জড়িত নয় অথচ এর দায় বহন করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকেই।

স্লাবভিত্তিক নিম্ন থেকে উপর পর্যন্ত বিভিন্ন মাত্রায় বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি নিম্নআয়ের মানুষ ও মধ্যবিত্তের দুর্ভোগ যেমন বাড়াবে তেমনি সরকার ও লুটপাটকারীদের দায় এড়ানোর পথ তৈরি করবে।

তারা বলেন, জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা এবং বাম জোট বহু দিন থেকে বলে আসছে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিখাতসহ অন্যান্যক্ষেত্রে চলমান দুর্নীতি ও অপচয় রোধ করলে এবং তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন না করে গ্যাস ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করলে বিদ্যুতের দাম না বাড়িয়ে কম দামে বিদ্যুৎ দেয়া সম্ভব।

তাছাড়া সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন না করে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ ক্রয় ও অলস বসিয়ে রেখে হাজার হাজার কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ ভর্তুকি দেয়ার ভুলনীতি অনুসরণ দুর্নীতিবাজদেরই প্রশ্রয় দেয়া হয়েছে।

সরকার ভর্তুকি সমন্বয়ের নামে আগামী তিন বছর মূল্য বৃদ্ধি পর্যায়ক্রমে করে যাবে। ফেব্রুয়ারি থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করেছে। সামনে গ্রাহক পর্যায়েও গ্যাসের দাম বাড়বে। জ্বালানি তেলের মূল্য মার্চ মাস থেকে প্রতি মাসে সমন্বয় করা হচ্ছে। সমন্বয়ের কথা বললেও বাস্তবে গড়পড়তায় দাম বাড়েই। এলপি গ্যাসের মূল্য এর প্রকৃষ্ট দৃষ্টান্ত।

নেতৃবৃন্দ বিদ্যুৎসহ জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে নাগরিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিল করে সকল ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অপচয় রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান।

একই সাথে সকল প্রকার অনিয়ম, দুর্নীতি, লুটপাট ও সরকারের স্বৈরতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তোলার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

নেতৃবৃন্দ বলেন, নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বি। সাধারণ মানুষের ক্রয়সীমার বাইরে ইতিমধ্যে চলে গেছে। তারপরও দাম বেড়েই চলছে। এর মধ্যে রমজানকে সামনে রেখে পেঁয়াজ, চিনি, ছোলা, খেজুর, গরুর মাংসের দাম বেড়েছে। দাম বাড়ানোর জন্য সিন্ডিকেটের কথা ও নাম পত্রপত্রিকায় এসেছে।

সরকার এদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয় না। এরা মন্ত্রীদের কথা শোনেও না। বিনাভোটের সরকার এদের অসীম ক্ষমতা প্রদান করেছে। জনগণের প্রয়োজন সরকারের কাছে মূল্যহীন। এরমধ্যে বিদ্যুৎসহ জ্বালানির দাম বৃদ্ধি নিত্যপণ্যের দাম আরেকদফা বাড়াবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
Translate »